Ajker Patrika

কাবিখার ১৮ প্রকল্প: সহায়কের হাতে প্রকল্পের চাবি

  • প্রকল্পের সভাপতি না হয়েও নিজেই কাজ করান পিআইও দপ্তরের অফিস সহায়ক।
  • বিলে স্বাক্ষর হওয়ার পরও টাকা আটকে রেখে সভাপতিদের ঘুরাচ্ছেন পিআইও দপ্তর।
আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৩৮
কাবিখার ১৮ প্রকল্প: সহায়কের হাতে প্রকল্পের চাবি

যশোরের মনিরামপুরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় নেওয়া ১৮টি প্রকল্পের বিল এক মাস আগে স্বাক্ষর হলেও এখন পর্যন্ত টাকা পাননি প্রকল্পের সভাপতিরা। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর বিলে স্বাক্ষর করিয়ে টাকা আটকে রেখে সভাপতিদের ঘুরাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। এতে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েই অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দে চলতি অর্থবছরে মনিরামপুরে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১৩৩ দশমিক ২৯ টন চাল বরাদ্দে ২১টি এবং সমপরিমাণ গম বরাদ্দে ২২টি প্রকল্প নেওয়া হয়। গত বছরের ১৩ নভেম্বর জেলা প্রশাসক এসব প্রকল্প অনুমোদন দেন এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে ৪৩টি প্রকল্পের মধ্যে চাল ও গমের নয়টি করে মোট ১৮টি প্রকল্পের বিল প্রস্তুত করে পিআইও দপ্তর। এসব বিলে স্বাক্ষর করে গত ৩০ নভেম্বর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেন প্রকল্পের সভাপতিরা। স্বাক্ষরিত ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে মনিরামপুর সদর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি, দুর্বাডাঙ্গা, কুলটিয়া ও মনোহরপুর ইউনিয়নের দুটি করে ১৪ টি, শ্যামকুড় ইউনিয়নের তিনটি এবং হরিহরনগর ইউনিয়নের একটি প্রকল্প রয়েছে।

কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে গত বৃহস্পতিবার হরিহরনগরের ডুমুরখালী, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি, কুলটিয়া ও শ্যামকুড় ইউনিয়নের ১২টি প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে সাতটিতে কোনো কাজের নমুনা পাওয়া যায়নি। দুটি প্রকল্পের সভাপতি জানান, টাকা পাওয়ার আশায় নিজ উদ্যোগে আংশিক কাজ করিয়েছেন।

চাকলা, বাঙ্গালিপুর ও গৌরীপুর গ্রামের তিনটি প্রকল্পে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি ফেলার কাজ চলতে দেখা গেলেও সেখানে প্রকল্পের সভাপতি বা পিআইও দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পের সভাপতি না হয়েও পিআইও দপ্তরের অফিস সহায়ক মিজানুর রহমান এক্সকাভেটর ভাড়া করে কাজ করাচ্ছেন। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের এবং মিজানুর রহমানের দায়িত্ব ছিল কাজ বুঝে নেওয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক্সকাভেটর চালকেরা বলেন, ‘মিজান নামের একজন আমাদের এনে কাজ করাচ্ছেন। তিনি মজুরি ও তেলের ব্যবস্থা করেন। এক্সকাভেটর ভাড়ার বিষয়ে মালিকের সঙ্গে তাঁরই চুক্তি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, ‘কাগজে আমরা প্রকল্পের সভাপতি হলেও বিলে স্বাক্ষর করা ছাড়া টাকার মুখ দেখি না। খাদ্যশস্য বিক্রির টাকা পিআইও অফিসের মিজান আটকে রেখে নিজেই এক্সকাভেটর ভাড়া করে কাজ করান। আমাদের দিয়ে শুধু দেখভাল করানো হয়, শেষে কোনো পারিশ্রমিকও দেওয়া হয় না। মেম্বরি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে চুপ থাকতে হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে পিআইও দপ্তরের অফিস সহায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পের টাকা আমার কাছে নেই। খাদ্যশস্য ক্রয়কারী ডিলারদের কাছে আছে। ইউএনও ও পিআইও বদলির কারণে টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহে সবাই টাকা পাবে।’ নিজে কাজ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার মাধ্যমে এক্সকাভেটর ভাড়া করলে মেম্বররা কিছু টাকা কমে পান।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, ‘আমার যোগদানের আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম কিস্তির কয়েকটি প্রকল্পের ৫০ শতাংশ বিল ছাড়া হয়েছিল। গত দুই দিনে বাকি প্রকল্পগুলোর বিল ছাড় করেছি। প্রথম কিস্তির প্রকল্পের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। মেয়াদ বাড়লে কাজ সম্পন্ন করা হবে, না হলে অর্ধেক কাজ বুঝে নিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ফেরত পাঠানো হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরাতে ইতিবাচক আইসিসি

১২০ বছরে ৩৬ দেশের সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্র, পরিণতি ভয়াবহ

শীতের সকালে গুলশানের মাদ্রাসায় নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন

বিএনপি প্রার্থীর এনআইডিতে স্নাতক, হলফনামায় এইচএসসি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন: হুমকিতে চীনের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত