Ajker Patrika

কালিয়াকৈরে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে কোটি টাকার সরকারি বনভূমি উদ্ধার

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
কালিয়াকৈরে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে কোটি টাকার সরকারি বনভূমি উদ্ধার
বাড়ইপাড়া উলুসাড়া এলাকায় ১০ শতাংশ সরকারি বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া উলুসাড়া এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ১০ শতাংশ সরকারি বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে দখল করে গড়ে তোলা দুটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈরে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার একরের বেশি বনভূমি রয়েছে। এ বনাঞ্চল কালিয়াকৈর ও কাচিঘাটা—এই দুই রেঞ্জে বিভক্ত। দুই রেঞ্জের আওতায় বোয়ালী, রঘুনাথপুর, খলশাজানি, জাথালিয়া, চন্দ্রা, মৌচাক, বাড়ইপাড়া, কাশিমপুর ও সাভার নামে নয়টি বিট অফিস এবং ভান্নারা ও গোবিন্দাপুর নামে দুটি সাব-বিট অফিস রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে শিল্প-কারখানা, বহুতল ভবনসহ নানা ধরনের কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ক্রমেই বনভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি বাড়ইপাড়া উলুসাড়া এলাকায় সরকারি বনভূমি দখল করে স্থানীয় বাসিন্দা ইখলাস ও বজলু মিয়া দুটি ঘর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওই দুটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি বনভূমির প্রায় ১০ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা জমিতে শিগগিরই বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে বনভূমি সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চন্দ্রা সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল হাসান শাকিলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন, মৌচাক বিট কর্মকর্তা শাহজাহান আলী, বাড়ইপাড়া বিট কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলামসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতায় এখনও বন বিভাগের জমিতে শত শত অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যাঁরা বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করতে পারেন না, তাঁদের স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হয়। বন বিভাগ চাইলে আরও অনেক অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারে।

চন্দ্রা সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল হাসান শাকিল বলেন, “সরকারি বনভূমি দখল করে কোনো ব্যক্তি স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। বন ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত