Ajker Patrika

২০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে এনেছিলেন ব্যবসায়ী, রাতে ডাকাতের কোপে স্ত্রী নিহত

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
২০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে এনেছিলেন ব্যবসায়ী, রাতে ডাকাতের কোপে স্ত্রী নিহত
ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামরুন আক্তার (৩৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের বাধা দিতে গিয়ে তাঁর স্বামী ও ১৬ বছর বয়সী মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের মঠবাড়ি তেতুইবাড়ি এলাকার নগরভেলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কামরুন আক্তার ওই গ্রামের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী। আহতরা হলেন মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর বড় মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম (১৬)। মঞ্জুরুল স্থানীয় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুরুল ইসলাম নিজ বাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। নির্মাণকাজের ব্যয় মেটাতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে রাখেন তিনি। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে ভেন্টিলেটর ভেঙে পাঁচ-ছয়জনের একদল ডাকাত ঘরে ঢোকে।

ডাকাতেরা আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করার সময় বিষয়টি টের পান কামরুন আক্তার। তিনি চিৎকার শুরু করলে মঞ্জুরুল, কামরুন ও তাঁদের বড় মেয়ে মিম ডাকাতদের বাধা দেন। একপর্যায়ে ডাকাতেরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে ডাকাতেরা লুট করা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত কামরুন আক্তারকে স্থানীয় ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ডা. মো. শাহাদাৎ হোসাইন তুহিন বলেন, রাত সোয়া ৪টার দিকে কামরুন আক্তারকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথা ও বুকের নিচে গভীর জখম ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে আনার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মঞ্জুরুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে মিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই স্বজনেরা ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের অন্য দুই সন্তান—এক মেয়ে ও এক ছেলে অক্ষত রয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পূর্বাচল শহরসংলগ্ন নাগরী এলাকায় জনবসতি ও জীবনযাত্রার মান বাড়লেও নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল। এলাকায় নামমাত্র একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে; সেখানে জনবল ও টহল গাড়ির সংকট রয়েছে। এ কারণে প্রায়ই চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত