Ajker Patrika

কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২৩: ১৭
কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের আশ্বাসে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগী হিসেবে সোহেল নামের এক ব্যক্তির নামও রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রায় দেড় মাস আগে গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি ভুক্তভোগী তরুণী। অন্যদিকে ভুক্তভোগী তরুণী ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর জিএমপির কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। ভুক্তভোগীর বাড়ি গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকায়। ওসি ও তাঁর লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন জিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অভিযোগে ভুক্তভোগী তরুণী জানান, দীর্ঘ ১ বছর ৫ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকাকালে তিনি ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান। সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁর (ভুক্তভোগীর) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং প্রতিনিয়ত মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক চলাকালে ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেন।

ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁর বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করতেন। ওসি ইফতেখারের এই অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত। সে আমাকে নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওসি ইফতেখার আমাকে পাঁছ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।’

অভিযোগে ওই তরুণী বলেন, ‘এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে ফোন করে পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর বন্ধু সোহেল এবং তাঁর কথিত এক আংকেলকে আমার বাসায় পাঠান। এ সময় তাঁরা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেন।’

বর্তমানে ওসি ইফতেখার ও তাঁর সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় তাঁর ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী তরুণী।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাঁদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এগুলো সব মিথ্যা কথা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে, সে তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত