Ajker Patrika

গাইবান্ধার ফুলছড়ি: ব্রহ্মপুত্রে বিলীনের পথে ফসলি জমি, টার্মিনাল

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮: ০১
গাইবান্ধার ফুলছড়ি: ব্রহ্মপুত্রে বিলীনের পথে ফসলি জমি, টার্মিনাল
ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের পাড়। ঝুঁকির মুখে ভুট্টাখেত। গত মঙ্গলবার গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে করে উদ্বেগ বাড়ছে নদ-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে নদটির তীরে অবস্থিত বালাসী ফেরিঘাট টার্মিনাল ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রায় ১৫৭ কোটি টাকার এই স্থাপনাটির মাত্র ১৫ মিটার দূরে ভাঙছে নদ। অন্যদিকে চরের ফসলি জমি নদে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙন রোধের স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারাভাবে ব্লক ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় দুই মাস আগে হঠাৎ করেই এ এলাকায় নদের ভাঙন শুরু হয়। প্রথম ধাক্কায় টার্মিনালসংলগ্ন প্রায় ১০০ মিটার এলাকা ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কয়েক দিন আগে আবারও প্রায় ৪০ মিটার জায়গা নদে ভেঙে পড়ে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় লঞ্চ টার্মিনাল, দোকানপাট, গুদামঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে চরের ভুট্টা, মরিচসহ অনেক ফসলি জমি নদে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা শুরু হলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোত আরও তীব্র হবে। তখন ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বর্ষার আগেই নদের তীর সংরক্ষণে কাজ শুরু করার দাবি জানান তাঁরা।

জানা গেছে, ২০২১ সালে বালাসী ফেরিঘাট টার্মিনাল নির্মিত হয়।

তবে নাব্যতার সংকটের কারণে ২০২৪ সাল থেকে এই টার্মিনালে লঞ্চ চলাচল বন্ধ আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ফেরিঘাট টার্মিনাল এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থায়ী স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেন, ভাঙনের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তবে স্থায়ী স্থাপনাগুলো সরানো সম্ভব নয়। ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, যেভাবে ভাঙন বাড়ছে, তাতে বর্ষা এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

ফসলি জমির ভাঙন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম বলেন, ভুট্টাসহ জমিগুলো ধপাস ধপাস করে নদে ভেঙে পড়ছে। কেউ তো নদের পাড়ের মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছে না।

কৃষক আজগর আলী বলেন, ‘অসময়ে নদের ভাঙনে খুব চিন্তায় আছি। ধারদেনা করে কষ্টের আধা-পাকা ভুট্টাগুলো ঘরোত তুলবের পামো কি না কে জানে!’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রোধে আমরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগ নেতারা চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন, মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতেন না: আব্দুল মোমেন

তৃতীয় মাত্রার জিল্লুরের সহধর্মিণী পেলেন বিএনপির মনোনয়ন

মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

দুর্নীতি করলে ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না, আজও একজনকে বিদায় দিয়েছি: শিক্ষামন্ত্রী

ছুরিকাহত জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালক ঢামেকে ভর্তি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত