Ajker Patrika

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধে চোরাই মাল কেনার অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৪৯
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধে চোরাই মাল কেনার অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টা
ঘটনা ধামাচাপা দিতে মীমাংসার পর দুই পক্ষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের (৩৫) বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে। চোরাই এসব মালামাল পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রাংশ বিধিবহির্ভূতভাবে বাইরে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি চোরাই মালামাল বিক্রির ঘটনায় সমির শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তাঁর মাধ্যমে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের কাছে যান। এ সময় সমির শেখ বিভিন্ন সময়ে চুরি করা মালামাল মাঈনুল ইসলামের কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সমির শেখ নগরকান্দা উপজেলার বিলনালিয়া গ্রামের খলিল শেখের ছেলে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সেখান থেকে বিভিন্ন সময় মালামাল চুরি করে একটি হার্ডওয়্যার দোকানে নিয়ে যেতেন। ওই দোকানদারের মাধ্যমে মাঈনুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। পরে বিভিন্ন সময় চুরি করা মালামাল তিনি অল্প দামে মাঈনুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন বলে দাবি করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবিদুল হাসান জানান, ফরিদপুর শহরের বদরপুর মারকাজ মসজিদের পাশে তাঁর ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজ চলাকালে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরি হয়। এর মধ্যে ৪৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি লেজার মেশিন, ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের দুটি হ্যামার ড্রিল, একটি সার্কুলার, ২১০০ ওয়াটের একটি রাউটার, দুটি ছোট ড্রিল, একটি বড় ড্রিলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব মালামালের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।

আবিদুল হাসান বলেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চোরকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে সে জানায়, চুরি করা মালামাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছে। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গেলে মাঈনুল ইসলামের কাছে লেজার মেশিন ও দুটি হ্যামার ড্রিল পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চোরকে ধরে হাসপাতালে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁদের ভেতরে ডেকে নেন। এ সময় চোরকে দরজা খুলে দিয়ে হাসপাতালের কিছু কর্মী পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ১ নম্বর কক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের সঙ্গে একটি মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৫ হাজার টাকা এবং দুটি যন্ত্র ফেরত দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কোথাও অভিযোগ না করার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে হাসপাতালের একটি পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে কাগজে স্বাক্ষর করতে দেখা যায়।

পরে বিষয়টি জানতে চাইলে আবিদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের মালামাল পেয়েছি, সমাধান হয়ে গেছে।’

হাসপাতালে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম নিয়মিত চোর চক্রের কাছ থেকে অল্প দামে মালামাল কেনেন। পরে সেগুলো নতুন করে কেনা হয়েছে দেখিয়ে ভাউচারের মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন নষ্ট যন্ত্রাংশও চক্রের মাধ্যমে বাইরে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের জেনারেটরের তেল কেনার দায়িত্বও মাঈনুল ইসলামের ওপর রয়েছে এবং সেখানেও অনিয়ম হচ্ছে। তাঁর দাবি, হাসপাতালের কনফারেন্স রুমের একটি এলইডি টেলিভিশন, এসি, ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মাঈনুল ইসলামের বাসায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা স্বীকার না করে ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ভাই, আমি ঝামেলার মধ্যে আছি। এসব নিয়ে কথা বলতে পারব না।’

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তাঁর এক সহকারীর মাধ্যমে জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন এবং আগামী রোববার এ বিষয়ে কথা বলবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত