Ajker Patrika

পেটে গজ রেখে সেলাই, নারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি

ফরিদপুর প্রতিনিধি
পেটে গজ রেখে সেলাই, নারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি
ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ কমিটি গঠন করা হয় বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। তাঁর দুই ছেলে ও দেড় মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মোক্তার হোসেন খানকে সভাপতি এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুলতানা বেগমকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সঞ্জীবন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জ্যোতিময় জ্যোতি এবং নুপুর পাল (ডিআরএস)।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন প্রসববেদনা নিয়ে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়কসংলগ্ন সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন কনিকা মন্ডল। ওই দিন সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর কন্যাসন্তান প্রসব করান।

অস্ত্রোপচারের পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তাঁরা নানা কারণ দেখিয়ে তাঁকে অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের ভাষ্য, সেখানে ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কনিকার পেটে সার্জিক্যাল মব বা গজ কাপড় রেখে সেলাই দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। সেখানে ৪২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (২০ আগস্ট) রাত সোয়া ২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর শুক্রবার সকালে কনিকার বাড়িতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি নিহতের পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, তদন্তে কারও দায় বা চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান, রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত