Ajker Patrika

তারাবির সময় বাসায় ছিল নারীরা, টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে পালাতে পারল না দুই ডাকাত

উত্তরা-বিমানবন্দর (ঢাকা) প্রতিনিধি 
তারাবির সময় বাসায় ছিল নারীরা, টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে পালাতে পারল না দুই ডাকাত
তোফাজ্জল হোসেন তোফা (৩৫) ও তারা মিয়া (৩৫) নামের দুজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করেছে জনতা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর তুরাগের ধারালো অস্ত্রসহ নিয়ে তারাবির নামাজের সময় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হাত-পা বেঁধে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন তোফা (৩৫) ও তারা মিয়া (৩৫) নামের দুজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করেছে জনতা। অপর দিকে রফিকুল ইসলাম (২৮) নামের আরেকজন পালিয়ে যান।

তুরাগের রানাভোলা তিতাসপাড়া ৩ নম্বর সড়কের আব্দুর রহমানের ভাড়া বাসার চতুর্থ তলার ব্যবসায়ী মাসুদ রানার ফ্ল্যাটে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে। যার কিছু ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই ডাকাত হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ মহিষবাথান গ্রামের গণি শিকদারের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন তোফা (৩৫) ও শরীয়তপুরের পালং উপজেলার দক্ষিণ কেবল গ্রামের হাসমত আওনের ছেলে তারা মিয়া (৩৫)। অপর দিকে রফিকুল ইসলাম (২৭) নামের তাঁদের আরেক সহযোগী পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী গাড়ি ও ইট-বালু ব্যবসায়ী মাসুদ রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তোফাজ্জল হোসেন ও তারা মিয়া এবং পলাতক রফিকুল ইসলামকে আসামি করে তুরাগ থানায় একটি মামলা করেছি।’

অপর দিকে তারঁ স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া মরিয়ম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওই সময় আমরা তারাবির নামাজ পড়ছিলাম। তখন আমার স্বামী বাইরে ছিল। ডাকাতেরা প্রথমে কলিং বেল বাজিয়েছিল, পরে আমার ননদ তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে ভাই বাসায় আছে কি না? পরে নাই বললে ডাকাতেরা দরজায় লাথি মেরে খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে।’

মরিয়ম আরও বলেন, ‘পরে ডাকাতদের দেখেই আমার ননদ চিৎকার করে। তখন আমি নামাজ থেকে উঠে দেখি আমার ননদকে মারধর করছে। তারপর আমি গেলে আমাকেও মারধর করে হাত-পা বেঁধে, গলায় ছুরি ধরে সবাইকে জবাই করার হুমকি দিয়ে ড্রয়ারে থাকা ব্যবসার ১৬ লাখ টাকা, আমার শরীরে থাকা গয়না খুলে নেয়। সেই সাথে আমার বড় ছেলে মোয়াজের (৫) ডান হাতের আঙুল কেটে ফেলে এবং ছোট ছেলে নীরবকে (২) ছুড়ে ফেলে। সেই সাথে আমার ননদকেও মারধর করে।’

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বোন আরজিনা আক্তার বলেন, ‘ডাকাতেরা রুমে ঢুকেই আমাকে দুই পায়ের মাঝখানে ফেলে ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরে ও হাত-পা বেঁধে মারধর করে। তখন আমি চিৎকার করলে ভাবি দরজা খুললে তাকেও মারধর ও নির্যাতন করে।’

আরজিনা আক্তার বলেন, ‘ডাকাতেরা বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আমরা ওপর থেকে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে নিচে থাকা এলাকার লোকজন তাদের দুজনকে ধরে ফেলে। তাদের কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণ উদ্ধার করে। অপর দিকে তাদের আরেকজন তিন লাখ টাকা ও কিছু স্বর্ণালংকার ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। ডাকাতদের হাতে ধারালো ছুরি, লোহার রড, স্কচটেপ ও দেশীয় অন্যান্য অস্ত্র ছিল।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তিতাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্যানিটারি মিস্ত্রি সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা পাশের চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ করে বাড়ির ওপর থেকে ডাকাত ডাকাত বলে মহিলাদের চিৎকার শুনতে পাই। ওই বাসা থেকে দৌড়াদৌড়ি করে কয়েজন লোকজন নামা শুরু করে, তখন আমরা সবাই মিলে দুজনকে ধরে ফেলি। পরে এলাকার লোকজন তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়ে দেয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও রিকশাচালক দুলাল মিয়া বলেন, ‘ডাকাত ডাকাত চিৎকার শুনে আমরা সবাই মিলে ছুরি, চাকুসহ দুজন ডাকাতকে ধরে ফেলি। পরে থানা খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির তুরাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে পালিয়ে যাওয়া আরেকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামীকাল (শুক্রবার) রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত