জোরপূর্বক চুল-দাড়ি কাটাকে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ করাসহ ১০ দাবি

ধর্মীয় প্রতীক, পোশাক ও পরিচয়ের কারণে হামলা, অপমান, জোরপূর্বক চুল-দাড়ি কাটা এবং মানসিক নিপীড়নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে ‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের কারণে সংঘটিত হত্যা, নির্যাতন ও সামাজিক নিপীড়নের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘ধর্মের নামে উগ্রবাদ প্রতিরোধে কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর হাসান নুরী সুরেশ্বরী দিপু।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— উপাসনালয়, মাজার, মন্দির, দরবার, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় হামলা বন্ধ করা; অতীতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা; মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন, জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ওরস, মেলা, পূজা ও সাংস্কৃতিক সমাবেশে নিরাপত্তার অজুহাতে অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া বাউল-ফকির, সুফি, হিন্দু সাধু এবং বিভিন্ন লোকায়ত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অনুসারীদের শান্তিপূর্ণ চর্চার অধিকার রক্ষা; নারী ও শিশু এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ ও কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বন্ধ; নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার ও অভিযোগ প্রতিকারের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; ঐতিহাসিক সুফি মাজার ও খানকার ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
অর্পিত ও শত্রু সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইনে ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পত্তির অধিকার পুনর্মূল্যায়ন এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মামলা পর্যালোচনা করে নিরপরাধীদের মুক্তির দাবিও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী বলেন, ‘তৌহিদী জনতা’ নাম ব্যবহার করে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি উন্মত্ত জনতা তৈরি করছে। এ ধরনের শক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্বাফী বলেন, সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাসকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তরিকা ভিন্ন হওয়ার কারণে একজন পীরকে কবর থেকে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লালনের মেলায় টাইম বোমা রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল ক্বাফী বলেন, এভাবে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতা দখল করতে চায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় বলেন, ‘আমি একটি সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ চাই, শান্তির বাংলাদেশ চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নির্মল রোজারিও, নূরে হক দরবার শরিফের আল্লামা হানিফ নুরী ও বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশনের সন্তোষ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামী ২ থেকে ৫ নভেম্বর দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেবে ‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’। এরপরও সরকার পদক্ষেপ না নিলে ১৩ নভেম্বর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। সর্বশেষ ২০ নভেম্বর শহীদ মিনার থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।









