Ajker Patrika

এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: মামা ওবায়দুরের রিমান্ড শুনানি ১ অক্টোবর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ০৭
এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু: মামা ওবায়দুরের রিমান্ড শুনানি ১ অক্টোবর
ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর মামা ওবায়দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আগামী ১ অক্টোবর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন ওবায়দুর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এই আবেদন করেন।

আদালতের শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মরিয়মের বিয়ের আগে থেকেই ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁদের বিয়েসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মরিয়ম ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামি বাসায় ছিলেন। তাঁদের কোনো ধরনের প্রভাবের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তার ক্ষেত্রে আসামিদের ভূমিকা ছিল কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফা আট দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে ২২ সেপ্টেম্বর এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদাসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলে ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানায়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে ভুক্তভোগীর বাবা দেখতে পান, অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।

তখন তিনি জানতে পারেন, বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁর মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এ সময় বিছানার ওপরে তাঁর লেখা একটি সুইসাইড নোট পান।

আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত