নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে মন্দিরের ফল চুরির অভিযোগ এনে প্রকাশ্যে সালিস বসিয়ে বিচার করা হবে ৬৫ বছর বয়সী সেবায়েত পরীক্ষিত দাসের। ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় মন্দিরের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে এমন কথা শুনে মাথা নিচু করে বারবার তাঁদের পা জড়িয়ে ধরে মাফ চান মন্দিরটির সেবায়েত পরীক্ষিত। এর পরও মন গলেনি তাঁদের। সালিস বসলে অপমান-অপদস্থ হয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে তিনি কীভাবে মুখ দেখাবেন—এই সব শঙ্কা থেকেই সেবায়েত পরীক্ষিত আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার রাতে রাজধানী ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এজাহারের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি মিরপুর বিভাগ। পরে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ডিবির প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মন্দির পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের নির্মম আচরণ ও কঠোর মনোভাবের কারণে সেবায়েত পরীক্ষিতের প্রাণ যায়। তাঁর বিরুদ্ধে ফল চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিচারের হুমকি দেওয়া হলে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।’
গত ১৬ আগস্ট কাফরুলের মন্দিরের ভেতরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সেবায়েত। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার কল্যাণী এলাকায়।
ডিবির প্রধান বলেন, ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব বিজয়ী হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা ও দপ্তর সম্পাদক বাদল সরকারের বিরুদ্ধে মৃতের ছেলে ভক্ত দাস বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলায় এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।’
পরীক্ষিতের পরিবারের বরাত দিয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মন্দির কমিটির লোকজনের কারণে পরীক্ষিতের এই পরিণতি। এর পুরো দায় তাঁদের। তাঁদের নিপীড়নের কারণে এই বয়সের একটি লোক আত্মহননের মতো সিদ্ধান্ত নিলেন। চুরি কেউ করলেও তা ক্ষমা করা যায়। আর অভিযোগ করলেও তা প্রমাণ সাপেক্ষ। এর জন্য দেশে আইন আছে।’
হারুন অর রশিদ বলেন, ‘তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও পরীক্ষিত দাসের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রায় ১১ বছর পরীক্ষিত কাফরুলের কেন্দ্রীয় মন্দিরে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৫ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে একটি ব্যাগ নিয়ে মন্দির থেকে বের হচ্ছিলেন তিনি। ওই ব্যাগে মন্দিরের ফল ছিল। পরে সেগুলো চুরির অভিযোগ তোলেন মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব বিজয়ী হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা ও দপ্তর সম্পাদক বাদল সরকার। পরদিন সকালে প্রকাশ্যে সালিস বসিয়ে বিচার করার হুমকি দেওয়া হয়।’
ডিবির প্রধান বলেন, একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে পরীক্ষিত দাস মন্দির থেকে বের হচ্ছেন। এ সময় বিপ্লব, সুমন ও বাদল তাঁকে বাধা দেন। তাঁরা হাত নাড়িয়ে কথা বলছেন পরীক্ষিত দাসের সঙ্গে। একপর্যায়ে পরীক্ষিত দাস তাঁদের একজনের দুই পা জড়িয়ে ধরেন। পরে উঠে ওই ব্যক্তিকে বুকে আঁকড়ে ধরেন তিনি। ভিডিওতে স্পষ্ট, তিনি বারবার ক্ষমা চাইছেন। পর্যায়ক্রমে অপর দুজনেরও পা জড়িয়ে ক্ষমা চান। পরে তাঁরা পরীক্ষিত দাসকে রেখে চলে যান। এর পরই তিনি মন্দিরের দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়ির রেলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরদিন সকালে সেখান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে কাফরুল থানার পুলিশ।
কেন্দ্রীয় মন্দিরের সাবেক সভাপতি নিথীশ কুমার সাহা বলেন, পরীক্ষিত দাস একজন নিরীহ মানুষ। আত্মমর্যাদা নিয়ে থাকতেন তিনি। ফল চুরির অভিযোগে বিপ্লব, সুমন ও বাদল তাঁকে অপমান-অপদস্থ করেছেন। সালিস বসিয়েও বিচার করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষিত ফল চুরি করার মতো মানুষ নন বলে দাবি করেন তিনি।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার জানান, তাঁর দল অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে। দুপুরে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় তাঁদের আদালতে হাজির করা হবে।

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে মন্দিরের ফল চুরির অভিযোগ এনে প্রকাশ্যে সালিস বসিয়ে বিচার করা হবে ৬৫ বছর বয়সী সেবায়েত পরীক্ষিত দাসের। ঢাকা মহানগর উত্তরের কেন্দ্রীয় মন্দিরের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে এমন কথা শুনে মাথা নিচু করে বারবার তাঁদের পা জড়িয়ে ধরে মাফ চান মন্দিরটির সেবায়েত পরীক্ষিত। এর পরও মন গলেনি তাঁদের। সালিস বসলে অপমান-অপদস্থ হয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে তিনি কীভাবে মুখ দেখাবেন—এই সব শঙ্কা থেকেই সেবায়েত পরীক্ষিত আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার রাতে রাজধানী ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এজাহারের তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি মিরপুর বিভাগ। পরে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ডিবির প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মন্দির পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যের নির্মম আচরণ ও কঠোর মনোভাবের কারণে সেবায়েত পরীক্ষিতের প্রাণ যায়। তাঁর বিরুদ্ধে ফল চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিচারের হুমকি দেওয়া হলে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।’
গত ১৬ আগস্ট কাফরুলের মন্দিরের ভেতরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সেবায়েত। তাঁর গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার কল্যাণী এলাকায়।
ডিবির প্রধান বলেন, ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব বিজয়ী হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা ও দপ্তর সম্পাদক বাদল সরকারের বিরুদ্ধে মৃতের ছেলে ভক্ত দাস বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলায় এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।’
পরীক্ষিতের পরিবারের বরাত দিয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মন্দির কমিটির লোকজনের কারণে পরীক্ষিতের এই পরিণতি। এর পুরো দায় তাঁদের। তাঁদের নিপীড়নের কারণে এই বয়সের একটি লোক আত্মহননের মতো সিদ্ধান্ত নিলেন। চুরি কেউ করলেও তা ক্ষমা করা যায়। আর অভিযোগ করলেও তা প্রমাণ সাপেক্ষ। এর জন্য দেশে আইন আছে।’
হারুন অর রশিদ বলেন, ‘তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও পরীক্ষিত দাসের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রায় ১১ বছর পরীক্ষিত কাফরুলের কেন্দ্রীয় মন্দিরে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৫ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে একটি ব্যাগ নিয়ে মন্দির থেকে বের হচ্ছিলেন তিনি। ওই ব্যাগে মন্দিরের ফল ছিল। পরে সেগুলো চুরির অভিযোগ তোলেন মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব বিজয়ী হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা ও দপ্তর সম্পাদক বাদল সরকার। পরদিন সকালে প্রকাশ্যে সালিস বসিয়ে বিচার করার হুমকি দেওয়া হয়।’
ডিবির প্রধান বলেন, একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে পরীক্ষিত দাস মন্দির থেকে বের হচ্ছেন। এ সময় বিপ্লব, সুমন ও বাদল তাঁকে বাধা দেন। তাঁরা হাত নাড়িয়ে কথা বলছেন পরীক্ষিত দাসের সঙ্গে। একপর্যায়ে পরীক্ষিত দাস তাঁদের একজনের দুই পা জড়িয়ে ধরেন। পরে উঠে ওই ব্যক্তিকে বুকে আঁকড়ে ধরেন তিনি। ভিডিওতে স্পষ্ট, তিনি বারবার ক্ষমা চাইছেন। পর্যায়ক্রমে অপর দুজনেরও পা জড়িয়ে ক্ষমা চান। পরে তাঁরা পরীক্ষিত দাসকে রেখে চলে যান। এর পরই তিনি মন্দিরের দ্বিতীয় তলায় ওঠার সিঁড়ির রেলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরদিন সকালে সেখান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে কাফরুল থানার পুলিশ।
কেন্দ্রীয় মন্দিরের সাবেক সভাপতি নিথীশ কুমার সাহা বলেন, পরীক্ষিত দাস একজন নিরীহ মানুষ। আত্মমর্যাদা নিয়ে থাকতেন তিনি। ফল চুরির অভিযোগে বিপ্লব, সুমন ও বাদল তাঁকে অপমান-অপদস্থ করেছেন। সালিস বসিয়েও বিচার করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষিত ফল চুরি করার মতো মানুষ নন বলে দাবি করেন তিনি।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার জানান, তাঁর দল অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে। দুপুরে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় তাঁদের আদালতে হাজির করা হবে।

কুলকান্দী ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, আনন্দ বাজার এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করতে দেখে আনোয়ারকে আটক করে স্থানীয় লোকজন ইউপি কার্যালয়ে এনে গ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
১৯ মিনিট আগে
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বদলি করা হয়। আজ বুধবার সকালে ইউএনও মাসুদুর রহমান নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান কলেজ প্রশাসন ছাত্রাবাসটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা সেখানে উঠবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর এলাকায় একটি প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় গোগনগরের মসিনাবন্দ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
২ ঘণ্টা আগে