Ajker Patrika

প্রাথমিকের ৮৭ শতাংশ শিক্ষক পেশা-বহির্ভূত কাজে যুক্ত, গুণগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
প্রাথমিকের ৮৭ শতাংশ শিক্ষক পেশা-বহির্ভূত কাজে যুক্ত, গুণগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কনফারেন্স কক্ষে এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৮৭ শতাংশ শিখন-শিক্ষণের বাইরে পেশা-বহির্ভূত কাজে যুক্ত। এই অতিরিক্ত দাপ্তরিক (নন-প্রফেশনাল) কাজ করে পাঠদানের জন্য কক্ষে আসার পর ৯০ শতাংশ শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। একই সঙ্গে কমে যাচ্ছে গুণগত শিক্ষা। তাই গুণগত শিক্ষা পাওয়ার আশায় পিতা-মাতা তাঁদের সন্তানকে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কনফারেন্স কক্ষে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আটটি বিভাগের ২১ জেলার ৫০টি উপজেলার মোট ৮৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৪৬৪ জন শিক্ষকের কাছ থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর নন-প্রফেশনাল কাজের অতিরিক্ত চাপ শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষকের মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষার্থীদের শিখনফলে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বাস্তবতায় ক্লাস চলাকালে প্রশাসনিক কাজ বন্ধ, প্রতিটি বিদ্যালয়ে সহায়ক জনবল নিয়োগ ও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মতো একাধিক জরুরি সুপারিশ সামনে এনেছেন গবেষক দলটি।

‘বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশা বহির্ভূত (নন-প্রফেশনাল) কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ-শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন: একটি বিশ্লেষণধর্মী মাঠ সমীক্ষা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ময়মনসিংহ। প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন গবেষণা পরিচালনা দলের টিম লিডার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া। গবেষণার পুরো বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে তুলে ধরেন ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানটি সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ২টায়।

গবেষণা পরিচালনা দলের টিম লিডার অধ্যাপক এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া জানান, বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিখন-শিক্ষণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত কাজ হলো—পাঠদান, শ্রেণিকার্যক্রম, মূল্যায়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি। এটি শিক্ষকদের প্রফেশনাল কাজ। অন্যদিকে, প্রফেশনাল কাজের বাইরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশক্রমে শিখন-শিক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় (যেমন; ভোটার তালিকা প্রণয়ন, জন্ম-মৃত্যু জরিপ, শিশু জরিপ, উপবৃত্তি সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ, তথ্য পূরণ, অনলাইন ডেটা এন্ট্রি ইত্যাদি) এমন কাজও তাঁদের (শিক্ষক) করতে হয়। যেটা শিক্ষকদের পেশা বহির্ভূত (নন-প্রফেশনাল) কাজ। পেশা-বহির্ভূত কাজে যুক্ত থাকায় সময় ব্যয়, শিক্ষাতাত্ত্বিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ছে।

শিক্ষকদের পেশা-বহির্ভূত কাজ শিক্ষাতাত্ত্বিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে তুলে ধরতে গিয়ে আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজ করে ক্লাসে আসার পরে ৯০ শতাংশ শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। ৮৭ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, দাপ্তরিক কাজের পর মনোযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়গুলো বুঝতে পারে না এবং তাদের পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে পেশা-বহির্ভূত কাজের চাপে বিশেষ ক্লাসগুলো (রেমিডিয়াল) নিতে পারছেন না বলে জানায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত