Ajker Patrika

ডেমরায় গ্রেপ্তার হানি ট্র্যাপের ৬ সদস্য কারাগারে

শ্যামপুর-কদমতলী (ঢাকা) প্রতিনিধি 
ডেমরায় গ্রেপ্তার হানি ট্র্যাপের ৬ সদস্য কারাগারে
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর ডেমরায় গ্রেপ্তার হানি ট্র্যাপের ৬ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিকেলেই তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মোখলেছুর রহমান ১৩ ফেব্রুয়ারি তুলি আক্তার সুমি (২৫), মেহেদী হাসান শাহরিয়া (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় মামলা করেন। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ডেমরার সারুলিয়া রসুলনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত রোববার দিবাগত রাতে পুলিশের পৃথক অভিযানে ডেমরার ডগাইর ও বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ডগাইর নতুনপাড়া, সাদেক ভূঁইয়া রোডের বাসিন্দা এবং পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার চর চান্দুপাড়া গ্রামের ছান্টু হাওলাদারের মেয়ে তুলি আক্তার সুমি, একই থানার গন্ডাপাড়া নিশানবাড়িয়া গ্রামের মৃত আলম হাওলাদারের ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩২), বরগুনা সদর থানার শিয়ালিয়া গ্রামের মো. সানু হাওলাদারের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম শান্ত (৩৮), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রুপচন্দ্রপুর গ্রামের কালাম তালুকদারের ছেলে মো. সজল তালুকদার (৩৮), গাজীপুরের কাশিমপুর থানার সারদাগঞ্জ গ্রামের আলমগীরের মেয়ে দুলালী মীম (২০) এবং চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার রসুলবাগ আবাসিক এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে ইয়াছিন (৪৩)।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর ইভা আক্তার নামের একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে এক নারীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর ওই নারী বিভিন্ন সময়ে দেখা করার অনুরোধ জানান। পরে গত ১৫ ডিসেম্বর ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে তাঁদের দেখা হয়। এ সময় সুমি তাঁকে সারুলিয়া রসুলনগর এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে যান। বাসায় প্রবেশের কিছুক্ষণ পর সুমি, মেহেদীসহ আরও ৬-৭ জন তাঁকে একটি কক্ষে আটক করে মারধর করেন এবং ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে মোখলেছুর তাঁর কাছে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা আসামিদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। এ ছাড়া আত্মীয় ও পরিচিতজনদের কাছ থেকেও টাকা এনে আসামিদের দেওয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নম্বরে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি শফিকুল ইসলাম শান্ত ও সজল তালুকদারের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা।

ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত