Ajker Patrika

মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ১০
মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে
রিধিকা রিধি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুপুরের পর হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পরে জামিন শুনানির জন্য আদালত ১৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন তিনি। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাঁকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) লিনা তাঁর দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর লিনা তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।

পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাঁর বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত