Ajker Patrika

ভোটের মাঠে উচ্ছ্বাস, জীবনের ‘প্রথম’ ও সম্ভবত ‘শেষ’ ভালো ভোটের আশা

শ্যামপুর-কদমতলী (ঢাকা) প্রতিনিধি জহিরুল আলম পিলু 
ভোটের মাঠে উচ্ছ্বাস, জীবনের ‘প্রথম’ ও সম্ভবত ‘শেষ’ ভালো ভোটের আশা
উচ্ছ্বাস আর আশা নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ। ছবি ঢাকা–৪ আসনের একটি কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ এর প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দেখা গেছে ভোটারদের ভিড়। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন বয়সী নারী–পুরুষ। পুরুষ ভোটারদের সঙ্গে সঙ্গে নারী ভোটারদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। সকলকেই দেখা গেছে হাসিখুশি ও উল্লসিত। বিশেষ করে, নতুন ভোটারদের চোখ–মুখে দেখা গেছে আনন্দ ও উদ্দীপনার ছাপ। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। ‎

‎রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানার আংশিক অংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৪ আসন। এই আসনে ওয়ার্ড রয়েছে নয়টি। ওয়ার্ডগুলো হলো—৪৭,৫১, ৫২,৫৩, ৫৪,৫৮, ৫৯,৬০ ও ৬১। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৯ ও নারী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৫ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৫ ও বুথ ৭০১ টি। ‎

‎ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর সংখ্যা মোট ৮ জন। এরা হলেন—তানভীর আহমেদ (বিএনপি), মো. আবুল কালাম আজাদ (জনতার দল), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ), সাহেল আহম্মেদ সোহেল (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট), সৈয়দ জয়নুল আবেদীন (বাংলাদেশ জামায়াতে  ইসলাম) ও সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ফিরোজ আলম মামুন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) ও  মিজানুর রহমান (স্বতন্ত্র)। ‎

‎ঢাকা-৪ এর শ্যামপুর ও কদমতলী থানার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে অনেকের চেহারায় আতঙ্কের ছাপও দেখা যায়। তারা সহিংসতার আশঙ্কা  করছেন। তবে ব্যালটে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের মধ্যে লড়াই হবে বলে জানান ভোটাররা।

ছোট ‎ভাই ওয়াসেক মিয়ার ধরে আসেন তাঁর ভাই ৭২ বছর বয়সী ভোটার বাদশা মিয়া। তিনি কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জানান, ‘আমি বয়সের কারণে ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। তবুও অনেক বছর পর ভোট দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। জানি না এটাই জীবনের শেষ ভোট কি না।’ তিনি ধানের শীষে ভোট দেন বলে উচ্চ স্বরে জানান।

‎তরুণ ও নতুন ভোটার সাদিয়া জানান, ‘জীবনের প্রথম ভোট দিতে এসেছি। সৎ, যোগ্য ও যারা দুর্নীতি করবেন না এ রকম প্রার্থীকে ভোট দেব।’ আমেনা নামে একজন বলেন, ‘শুনতেছি ভোটে গন্ডগোল হতে পারে। তাই সকাল সকাল ভোট দিতে আসছি। তবে ভোটের পরিবেশ ভালো। আমি স্বাধীনতার পক্ষের দলের প্রার্থীকে ভোট দেব।’  

‎বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ আসনের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। পোস্তগোলার কেএম সিরাজউদ্দৌলা জ্ঞানের আলো আদর্শ বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, ‘এখন পর্যন্ত ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই হচ্ছে।’

‎এদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। রবিন বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে এখনো কথা বলার সময় হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত