Ajker Patrika

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানি: বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল, হাতাহাতি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৪০
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানি: বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল, হাতাহাতি
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতের মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে জামিন শুনানির আগে ও পরে এজলাসে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। এজলাসের বাইরে দুই দলের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়।

আজ দুপুরের দিকে একদিনের রিমান্ড শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে আদালত এলাকায় আনা হয়। তাঁকে ঢাকার চিপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজত খানায় রাখা হয়। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁকে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় বিএনপি ও জামাতপন্থী আইনজীবীরা এজলাসে ভিড় করেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্য থেকে আখতারুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে বেইমান বলা হচ্ছিল। জামাতপন্থী আইনজীবীদের থেকেও প্রতিক্রিয়া আসছিল।

এর মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে ওঠার আগে হঠাৎ করে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে শুনানি শুরু হলে হট্টগোল থেমে যায়।

কিন্তু মামলার শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের প্রীতি ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক সবাইকে থামানোর চেষ্টা করেন। তাদের হস্তক্ষেপে একপর্যায়ে হাতাহাতি থেমে যায়। কিন্তু কি কারণে হাতাহাতি সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

গতকাল শনিবার আখতারুজ্জামানকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। আজ রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। ওই দিনই আখতারুজ্জামানকে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে নামার পর লাগেজ সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি পেতে ভোগান্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতির কথা জানার পর ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

এরপর নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তখন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং হুমকিসূচক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।

ঘটনার পর বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আখতারুজ্জামান হুমকি দেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও করছিলেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অনুরোধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এ সময় আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধি সেখানে গেলে তাঁর সঙ্গেও আখতারুজ্জামান উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন। একই সঙ্গে যাত্রীদের জমজমের পানি রাখা বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেন।

বাদীর অভিযোগ, এসব আচরণের ফলে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত