Ajker Patrika

আশুলিয়ায় মাদ্রাসা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আশুলিয়ায় মাদ্রাসা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলন
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) দারুল ইহ্সান ট্রাস্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত তাহ্ফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি-সম্পত্তি জবরদখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে দারুল ইহ্সান ট্রাস্ট। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে ট্রাস্টের সচিব মো. ফজলুল করিম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দারুল ইহ্সান ট্রাস্টের (ধানমন্ডি) প্রধান উপদেষ্টা ডা. সালেহ উদ্দিন সাঈদ ও অ্যাসেট অফিসার মো. জাকির হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ট্রাস্টের সচিব মো. ফজলুল করিম। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক মরহুম ড. সৈয়দ আলী আশরাফ ১৯৮৬ সালে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দারুল ইহসান ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এই ট্রাস্টের নামে ৮ দশমিক ৬৩ একর জমি দান করেন। পরবর্তীতে ওই ট্রাস্টের অধীনে ১৯৯৩ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ড. সৈয়দ আলী আশরাফ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, পরে অধ্যাপক ড. এম. এ হামিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০০৬ সালে ট্রাস্টের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সৈয়দ আলী নকী কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় অধিকাংশ ট্রাস্টি সদস্যদের না জানিয়ে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস কার্যালয়ে একই নামে আরেকটি ‘দারুল ইহসান ট্রাস্ট’ নিবন্ধন করেন। ওই ট্রাস্টের কোনো সম্পত্তি না থাকলেও পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে আউটার ক্যাম্পাস খুলে সার্টিফিকেট বিক্রির ব্যবসা শুরু করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা-পাল্টা মামলা চলার পর ২০১৬ সালে হাইকোর্ট ১৩টি রিট একত্রে শুনানি করে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে এবং ‘সৈয়দ আলী আশরাফ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে বিকল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দেয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আদালতের নির্দেশনার পর মূল ট্রাস্ট তাদের ধানমন্ডির প্রধান ক্যাম্পাসসহ সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিলেও প্রতিপক্ষ পক্ষ এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।

ট্রাস্টের অভিযোগ, সম্প্রতি আশুলিয়ার গনকবাড়ীতে ট্রাস্টের মালিকানাধীন তাহ্ফিযুল কুরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা ও সংলগ্ন স্থাপনা জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। মাদ্রাসার মূল ফটকে ‘দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়’ লেখা ব্যানার টানিয়ে সেখানে নতুন করে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। এ কাজে মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মোমেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়।

কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কিছু বহিরাগত ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে মাদক সেবনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এ ছাড়া সংলগ্ন বাজারের দোকানিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ট্রাস্টের নিয়োগকৃত অ্যাসেট ম্যানেজার জাকির হোসেনকে মাদ্রাসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দারুল ইহসান ট্রাস্ট (১৯৮৬) কর্তৃপক্ষ আশুলিয়া থানা–পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মাদ্রাসা ও ট্রাস্টের সম্পত্তি দখলমুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হঠাৎ বাড়তি রড-সিমেন্টের দাম

ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—নিশ্চিত করলেন দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিছানো শুরু ইরানের, নজিরবিহীন পরিণতির হুমকি ট্রাম্পের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত