Ajker Patrika

বোরকা পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, হদিস নেই ৮৩ ল্যাপটপের: পুলিশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বোরকা পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, হদিস নেই ৮৩ ল্যাপটপের: পুলিশ
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের পর ৮৩টি ল্যাপটপের হদিস নেই। পুলিশের দাবি, ল্যাপটপসহ সংরক্ষিত মালামালের ক্ষতি করতেই পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—আসমাউল ইসলাম (পরিচ্ছন্নতাকর্মী), স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস এবং স্টোরকিপার হুমায়ুন কবীর খান।

পুলিশ জানায়, আসমাউল ইসলাম বোরকা পরে ভোরে স্টোররুমে আগুন দেন। এ কাজের জন্য তাঁর সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আগাম ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, যা দিয়ে তিনি বিভিন্ন সামগ্রী কিনেছেন।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে। সেখানে মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ৭৩৫টি ল্যাপটপ রাখা ছিল। আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ২৯টির বেশির ভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হিসাব অনুযায়ী ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পুলিশের ভাষ্য, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এর পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে স্টোররুম থেকে কোনো ল্যাপটপ সরানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, ‘স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও অন্যান্য মালামালের ক্ষতি করতেই আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে ২-৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে আসমাউল ইসলামকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘হৃদয়’ নামের আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাকে ঢাকায় রেখো না, ঢাকার বাইরে নিয়ে যাও’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হঠাৎ রমনা থানা পরিদর্শন, ১০ মিনিটে যা যা করলেন

‘ছোট ভাইকে না মেরে ভাত খাবে না বড় ভাই’

আওয়ামী লীগের সাবেক ছয়বারের এমপি মোসলেম উদ্দিন মারা গেছেন

ইরানের সঙ্গে স্থল বাণিজ্য পথ খুলে দিল পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র কি মেনে নেবে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত