Ajker Patrika

অধ্যাপক জিনাত হুদার বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৫৯
অধ্যাপক জিনাত হুদার বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ
অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। ছবি: সংগৃহীত

দেশবরেণ্য শিক্ষক, বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে চারটি দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তের প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষক সমাজের নেতারা মনে করেন, এ তদন্ত ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তাঁদের দাবি, সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির ‘ফরমায়েশি’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে অধ্যাপক জিনাত হুদাকে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, শিক্ষকের মর্যাদা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতির বিবেক শিক্ষকদের কণ্ঠরোধ করার একের পর এক অপচেষ্টা চলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষক সমাজের নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মতপ্রকাশের ঐতিহ্যগত কেন্দ্র। ভিন্নমতের জবাব হতে হবে যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে, প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়।

তাঁরা আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে নয়; ন্যায়, স্বচ্ছতা, যুক্তি ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমুন্নত থাকে। কোনো শিক্ষককে তাঁর মত, বক্তব্য বা অবস্থানের কারণে হয়রানি করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের চার দফা দাবি হলো—অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে; অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে; প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে; এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তও হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত