Ajker Patrika

কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বিরকে হত্যা: ডিবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৪৫
কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বিরকে হত্যা: ডিবি
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ডিবির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম এই তথ্য জানান।

ডিবির প্রধান জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদা আদায়ের জন্য ৮ থেকে ৯টি সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। বিদেশে পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে ‘বিনাশ’-এর নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কোনো নির্দিষ্ট দল নেই। কারওয়ান বাজারের মতো বড় কাঁচাবাজারে দখল-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে তারা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ব্যানারের আশ্রয় নেয়।’

৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত অন্যতম প্রধান শুটার মো. রহিমকে গতকাল শুক্রবার নরসিংদীর মাধবদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রহিমের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ১২টি গুলি।

এর আগে ১১ জানুয়ারি এই মামলার আরও চার আসামি জিন্নাত, আবদুল কাদির, মো. রিয়াজ ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোট পাঁচজন এখন পুলিশের হেফাজতে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রহিম ও জিন্নাত নামের দুজন সরাসরি গুলি চালাতে অংশ নেয়। গ্রেপ্তারের পর একজন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে ‘দাদা’ বা বিনাশের নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে। বিনাশ বর্তমানে দেশের বাইরে থাকলেও তাঁর নাম ভাঙিয়ে কারওয়ান বাজারে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কারওয়ান বাজারের এই ৮-৯টি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট আমরা অচিরেই ভেঙে দেব। শিগগিরই সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে।’ তিনি আরও জানান, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং গত এক মাসে সর্বোচ্চ ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত