Ajker Patrika

ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬
ফাইল ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর ও অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্য, আনসারের এক সদস্য ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক নিরাপত্তাপ্রহরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ তাঁদের আদালতে পাঠালে ঢাকা মহানগর হাকিম আশরাফুল হক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন একটি গোয়েন্দা সংস্থার সার্জেন্ট আল মামুন ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান, আনসার সদস্য সোহেল রানা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলাম। এ মামলায় সোনিয়া ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল নামের আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মো. শরীফ শ্যামলীর একজন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। শনিবার মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শরীফকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান সোহেল। সেখানে সোনিয়া নামের এক নারী ছিলেন। তাঁকে নিজের বোন বলে পরিচয় দেন সোহেল।

এজাহারে শরীফ অভিযোগ করেন, বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল ঘর থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মামলার অন্য আসামিরা সেখানে এসে তাঁকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তাঁরা। তিনি ঘটনাস্থলেই ৭০ হাজার টাকা দেন। তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়।

পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন শরীফ। এ সময় তাঁকে ওই বাসায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ভোর ৩টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শরীফকে ওই বাসা থেকে নামিয়ে একটি টয়োটা গাড়িতে তোলেন। পরে গাড়িটি শেরেবাংলা নগরে শিশু হাসপাতালের বিপরীত দিকে রেখে তাঁরা চা পান করতে যান। এ সময় শরীফ একটি পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে সহায়তা চান। গাড়িটি ছিল শেরেবাংলা নগর থানার একটি টহল দলের।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশু হাসপাতালের কাছে আমাদের চেকপোস্ট ছিল। সেখানে ওই ব্যবসায়ী আমাদের সহায়তা চাইলে পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে গাড়িসহ মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেনাসদর থেকে কর্মকর্তারা থানায় এসে বিষয়টি যাচাই করেন। এরপর তাঁদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত