চবি রেলস্টেশনে দুই পথশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আটক ১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এলাকায় দুই পথশিশুকে এক হাজার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৪-৫ জন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জিরো পয়েন্ট মসজিদসংলগ্ন রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা।
আটক ব্যক্তির নাম মাকসুদ আলী। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের আব্দুল জলিল ও দিলারা বেগমের সন্তান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ আলম বলেন, শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসা দুই পথশিশু বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিল। একজনের বয়স আনুমানিক ১৩ বছর, অন্যজনের ১০ বছরের কম।
মিনহাজ আলম বলেন, ‘রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৪-৫ জন ব্যক্তি তাদের কাছে গিয়ে এক হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে যেতে বলে। তারা রাজি না হলে তাদের মুখ চেপে ধরে এবং হাত-পা ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।’
চিৎকার শুনে পাশ দিয়ে যাওয়া স্থানীয় এক ব্যক্তি সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তাঁর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি শিশু দুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন।
সকালে শিশু দুটিকে নিয়ে আবার স্টেশনে গেলে ওই ব্যক্তি অভিযুক্তদের একজনকে সেখানে দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এ পর্যায়ে তাঁকে মারধরও করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন যেকোনো স্থানে শিক্ষার্থী ও বহিরাগত—সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা দপ্তরের।
ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, ‘ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি চলমান থাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের কিছুটা সংকট থাকতে পারে। তবে সেটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে না।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, রাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার সময় স্টেশন এলাকায় কিছু ভাসমান মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করছে।
মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে স্টেশন এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করতে টহলদলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
প্রক্টর আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশের অধীনে রয়েছে এবং পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ লিখিত কোনো অভিযোগ পায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে, ছেড়ে দেওয়া হয়নি।’









