Ajker Patrika

সিডিপিএল প্রকল্প: পাইপলাইনে মিলছে সুফল, বাধা জনবলসংকট

• ২৫১ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৬৯ জন।

• বছরে সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২২৬ কোটি টাকা।

• ঘণ্টায় ৩৪৬ টন তেল পরিবহনের সক্ষমতা।

• এ পর্যন্ত তেলের ৮৪টি চালান পরিবহন।

আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম
সিডিপিএল প্রকল্প: পাইপলাইনে মিলছে সুফল, বাধা জনবলসংকট
ফাইল ছবি

৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্পে (সিডিপিএল) জ্বালানি তেল পরিবহনে মিলছে সুফল। নৌপথের ৪৮ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছাচ্ছে তেল। তবে আধুনিক এ প্রকল্পের সুফল টেকসই করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবলসংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি। ২৫১ জনের জনবলকাঠামোর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৬৯ জন। ফলে বিপুল বিনিয়োগে গড়ে তোলা জ্বালানি পরিবহনের এ অবকাঠামোর কার্যকর পরিচালনা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

জানা গেছে, সিডিপিএল প্রকল্পটি বর্তমানে পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি (পিটিসি পিএলসি) পরিচালনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিটিসি পিএলসির এক কর্মকর্তা জানান, সিডিপিএল প্রকল্পটিতে চরম জনবলসংকট রয়েছে। বিশেষ করে অপারেশন ও প্লানিং এবং প্রকৌশল শাখায় জনবল একেবারেই কম। প্রকৌশল শাখায় ১১৯ লোক থাকার কথা, অথচ রয়েছে মাত্র ৩১ জন। এভাবে অপারেশন ও প্লানিংয়ে ৮৭ জন থাকার কথা, কিন্তু রয়েছে ৩০ জন। সিডিপিএলতে মোট ২৫১ জন থাকার কথা, কিন্তু রয়েছে ৬৯ জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের ৮৪টি পার্সেল (চালান) চট্টগ্রামের পতেঙ্গার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার জ্বালানি তেলের প্রধান ডিপোগুলো থেকে পাইপলাইনে কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের গুদনাইল পর্যন্ত ডিপোগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

সিডিপিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, আমাদের লোকবলসংকট রয়েছে। এটি একটি আধুনিক প্রকল্প। এটিকে নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

সিডিপিএল সূত্র জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তিন কোম্পানির (পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা) ৫ লাখ ৩৮ টন জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলেও মূলত পুরোপুরি চালু হয় চলতি বছরের জুলাইয়ে।

বিপিসি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৩ জুন থেকে ৭টি পার্সেলে মেঘনা অয়েল লিমিটেডে ৩ কোটি ২২ লাখ ৭১ হাজার ৭৪৪ লিটার ডিজেল পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়ে হয়েছে। একইভাবে পদ্মা ও যমুনা অয়েল থেকেও জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পরিবহন করা হয়। তথ্যমতে, প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর আওতায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত ২৪৯ দশমিক ৪২ কিলোমিটার পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে গোদনাইল পর্যন্ত পাইপের ব্যাস ১৬ ইঞ্চি, গোদনাইল থেকে ফতুল্লা ১০ ইঞ্চি।

বিপিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, পরিবেশবান্ধব, ঝুঁকিমুক্ত, পরিবহন ব্যয় ও সময়সাশ্রয়ী ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪২ কিলোমিটার পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৩৪৬ টন ডিজেল যাওয়ার কথা নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে। সূত্র জানায়, এ প্রকল্পে বছরে সাশ্রয় হবে ২২৬ কোটি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে পিটিসি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল আহসানের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত