সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী বাপ্পি হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র—একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে বাপ্পির মা জমিলা খাতুন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকার ইসমাইল হোসেন ওরফে বিগশোর ছেলে মো. আরিফ হোসেন (২৯), মৃত জহির ইসলামের ছেলে রনি ওরফে নুর আহমদ রনি (২৬), একই ইউনিয়নের অলিনগর এলাকার মৃত নুর আলমের ছেলে ফখরুল ইসলাম (৩২), মো. মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. ইফতেখার (৩৫), নডালিয়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল মান্নান (২৮) এবং মুরাদপুর ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকার মো. নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা সীতাকুণ্ডের অলিনগর এলাকায় সাদ্দামের অফিসের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।
এ সময় বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা তাফসির আলম শাওনও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। হামলাকারীরা তাঁদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানান পুলিশ সুপার।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রকাশ্যে গুলি করে বাপ্পিকে হত্যার ঘটনায় তাঁর মা জমিলা খাতুন বাদী হয়ে শনিবার রাতে মামলা করেছেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।









