ইউএনওর সরকারি গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, সাবেক মেয়রসহ ৭৯ জনের নামে মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ব্যবহৃত সরকারি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় সরকারি গাড়ির প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর রাতে রহনপুর পৌর এলাকার কেডিসি পাড়া বধ্যভূমি ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোমস্তাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের গাড়িচালক মো. রাসেল আলী বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় মামলাটি করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টার দিকে গোমস্তাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিল্লুর রহমান সরকারি গাড়িতে রহনপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন কেডিসি পাড়ায় যান। আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির লোকজনের সঙ্গে মাদক ও দেহব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বধ্যভূমির সামনে প্রধান সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা পরিদর্শন করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে দুই পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গালাগাল করেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউএনওর নির্দেশে তাঁরা সরকারি গাড়িতে উপজেলা পরিষদের উদ্দেশে রওনা হন।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত পৌনে ১০টার দিকে কেডিসি পাড়া বধ্যভূমির সামনে সাম মোহাম্মদ মারিল (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করতে দেখেন তাঁরা। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তি গাড়ির সামনে পড়ে গেলে তাঁকে সরকারি গাড়িতে তুলে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এরপর রহনপুর বিজিবি ক্যাম্পের ফটক পার হয়ে ক্যাম্পের সীমানাপ্রাচীরের শেষ প্রান্তে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সরকারি গাড়িটির পথরোধ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় গাড়িটিতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এতে গাড়ির পাশের কাচ ও রাবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া গাড়ির বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ফুটো হয়। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ সময় কেডিসি পাড়ায় গেলে কিংবা বধ্যভূমির সংযোগ সড়কের কাজ করা হলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলিম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. সোহেল রানাসহ কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় উসকানি দেওয়া, নির্দেশনা দেওয়া ও অর্থ জোগানের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়া এবং লাঠিসোঁটা সরবরাহের অভিযোগ করা হয়েছে।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, এ ঘটনায় আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









