Ajker Patrika

মামলা করায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে আবারও অপহরণ

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
মামলা করায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে আবারও অপহরণ
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার ধুনটে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর ভুক্তভোগী কিশোরীকে আবারও অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার এবং অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট দুপুরের দিকে ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়।

এ ঘটনায় ১২ আগস্ট শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নিমগাছি ইউনিয়নের শাহাদৎ প্রামানিকের ছেলে শাহ আলমকে (৪২) আসামি করে বগুড়া জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগের শুনানি শেষে আদালত ধুনট থানাকে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী শনিবার রাতে মামলাটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি শাহ আলম একজন মুদি দোকানি। তিনি নিজ বাড়ির পাশে মুদি দোকান পরিচালনা করেন। গত ৪ আগস্ট ওই কিশোরী সাবান ও শ্যাম্পু কিনতে তাঁর দোকানে যায়। তখন শাহ আলম তাকে বলেন, দোকানে ভালো সাবান ও শ্যাম্পু নেই, বাড়িতে আছে। এ কথা বলে তিনি কৌশলে কিশোরীকে নিজের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে শাহ আলম সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। একই সঙ্গে ধর্ষণের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মেয়ের বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় কিশোরীর মা দোকানে যান। দোকান বন্ধ দেখে তিনি শাহ আলমের বাড়িতে গেলে ঘরের ভেতর মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই শাহ আলম পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরে ১২ আগস্ট শিক্ষার্থীর বাবা আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর পেয়ে শাহ আলম শুক্রবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে ওই কিশোরীকে আবারও কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বলেন, ‘শাহ আলম আমার মেয়েকে ভালো সাবান-শ্যাম্পু দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ে ছোট, তাই তার চালাকি বুঝতে পারে নাই। মামলা করার খবর পেয়ে আমার মেয়েকে শাহ আলম আবার অপহরণ করে নিয়ে গেছে। বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা আমার মেয়েকে উদ্ধার করে দিতে চেয়েছে।’

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলাটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার ও অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের অভিযান চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত