
যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর টিনের ছাউনি দেওয়া একটি খোলা ঘরে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা ক্লাস চলছিল। সেখানে কোথাও দরজা নেই, জানালা নেই। নেই শিক্ষকদের বসার আলাদা কক্ষ, নেই অফিস ও শৌচাগার। হঠাৎ বাতাস জোরে বইলে টিনের ছাউনি কেঁপে ওঠে। বৃষ্টি নামলে থেমে যায় পাঠদান, ভিজে যায় বই-খাতা। এটাই এখন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১০৭ বছরের ইতিহাস বহন করা বিদ্যালয়টির পাকা ভবন গত মে মাসে যমুনার ভয়াল ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ষষ্ঠবারের মতো নদীভাঙনের শিকার হলো বিদ্যালয়টি। শিক্ষকেরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধের ওপর টিনের ছাউনি তুলে শিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। নদী শুধু ভবন নয়, আশপাশের বাড়িঘর থেকে শুরু করে কেড়ে নিয়েছে শিক্ষার পরিবেশও।
১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একসময় ছিল যমুনাপারের কয়েকটি গ্রামের শিশুদের শিক্ষার প্রধান ভরসা। চকরতিনাথ, করমজাপাড়া, ধনেরপাড়া, কর্নিবাড়ি, শিমুলবাড়িসহ আশপাশের গ্রামের শত শত শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করত। কিন্তু বছরের পর বছর নদীভাঙনে গ্রাম হারিয়েছে, বসতভিটা হারিয়েছে মানুষ। পরিবারগুলো একের পর এক অন্যত্র সরে যাওয়ায় কমেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ১০ বছর আগেও শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ৫০০। কিন্তু এখন শিক্ষার্থী মাত্র ৭৩ জন।
সুজাতপুর চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে ছোট ছোট শিশু কয়েক কিলোমিটার হেঁটে নদীর ঘাটে আসে। এরপর খেয়ানৌকায় যমুনা পার হয়ে আবার হেঁটে পৌঁছায় বিদ্যালয়ে। বর্ষায় নদী উত্তাল থাকলে সেই যাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক দিন আবহাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোই সম্ভব হয় না। তারপরও লেখাপড়া ছাড়তে রাজি নয় শিশুরা।
চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর কবির বলেন, এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে শিক্ষা দিয়ে আসা একটি বিদ্যালয়কে ১০ বছরে ছয়বার স্থান বদলাতে হয়েছে। প্রশ্ন ওঠে নদীভাঙনপ্রবণ জনপদে শিক্ষা অবকাঠামো রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কতটা কার্যকর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া না হলে চকরতিনাথের মতো আরও অনেক বিদ্যালয় হয়তো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছরে নদীভাঙনের কারণে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া নতুন ভাঙনে প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ, গোয়ালঘর ও রাস্তা। অনেক পরিবার ভাঙনের আগেই নিজেদের ঘর খুলে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।
চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিন্নাহ আলম বলেন, শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ না করতেই আমরা এই অস্থায়ী ব্যবস্থা করেছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিদ্যালয়ের জন্য ২০ হাজার টাকা জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নতুন জায়গা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থান চূড়ান্ত হলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খুলনার ভৈরব নদের জেলখানা ঘাটে ট্রলার ডুবির ঘটনার ৭ দিন পর নিখোঁজ যুবক রাকিব খানের (২৭) ভেসে ওঠা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার পশুর নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়...
৬ মিনিট আগে
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আশরাফুন্নাহার হেনা...
২৫ মিনিট আগে
পিরোজপুরের নাজিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই নারীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়...
৩৫ মিনিট আগে
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে পিকআপের ধাক্কায় প্রবীর (৪০) নামে ওই পিকআপের হেলপার নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বিজয়পাশা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে