Ajker Patrika

বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ০৬
বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুরে বিএনপি নেতা হোসেন মাঝিকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার ঘটনায় আসিফ (২৩) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত আসিফকে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার ভোর ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

আসিফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান।

নিহত আসিফ রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সালাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। আহত হোসেন মাঝি একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হেলালউদ্দিন।

আহত বিএনপি নেতা হোসেন মাঝিকে প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে গতকাল রাত ৮টার দিকে উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায় ধারালো ছুরি দিয়ে হোসেন মাঝিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন আসিফ। এ ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে হোসেন মাঝির তিন ছেলেসহ তাঁর স্বজনেরা আসিফকে ধরে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনও এতে যোগ দেন। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত আসিফকে পরে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হোসেন মাঝির প্রতিবেশী কৃষক মো. শাহজাহান ও মো. হাশেম চৌকিদারের দাবি, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হোসেন মাঝিকে ছুরিকাঘাত করেন আসিফ।

অন্যদিকে আসিফের মা হালিমা বেগম ও বড় ভাই ইসমাইলের অভিযোগ, হোসেন মাঝির ছেলেসহ স্থানীয় কয়েকজন আসিফকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁকে আনন্দবাজার এলাকার একটি দোকানে আটকে রেখে মারধর করা হয়। তাঁদের দাবি, আসিফকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে হত্যা করা হয়েছে। মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সদর উপজেলার ইলিশা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক বশির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গুরুতর আহত আসিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বশির আহমেদ আরও বলেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত