Ajker Patrika

মুলাদীতে বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে একাকার ৮ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগে মানুষ

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
মুলাদীতে বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে একাকার ৮ কিলোমিটার সড়ক, দুর্ভোগে মানুষ
জাগরনী বাজার হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের মুলাদীতে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর বাজার থেকে জাগরনী বাজার হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে কাদা-পানি ও বড় বড় গর্ত। এতে প্রতিদিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে এলাকার শিক্ষার্থীরা। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পূর্ব তয়কা ও জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থাকছে।

এ ছাড়া সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়াতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

জাগরনী বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, সড়কে কাদামাটি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, বাজারের ব্যবসায়ী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়কে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনেও সমস্যায় পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে টেকসই সড়ক ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সড়কটি পাকাকরণের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

সেলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের ঘরামী বলেন, ‘গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। খাট কিংবা চেয়ারে বসিয়ে কাঁধে করে রোগীকে নিয়ে যেতে হয়। সড়কের কিছু জায়গায় বালুর বস্তা, গাছ ও বাঁশ দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করতে হচ্ছে।’

স্থানীয়দের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্ভোগ দূর করে শিক্ষা, কৃষি ও সার্বিক জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক রাখতে সড়কটি দ্রুত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন।

বাটামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, বাটামারা ইউনিয়নে মাত্র ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। বাকি সড়কগুলোর বেশির ভাগই কাঁচা। বৃষ্টিতে এসব সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেলিমপুর বাজার থেকে জাগরনী বাজার হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য কয়েকবার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কটি সংস্কার বা পাকা করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, সরকারি বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় দুর্গম এলাকার কাঁচা সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেলিমপুর বাজার থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত