Ajker Patrika

মুলাদীতে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই সেতু নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করলেন মালিকেরা

মুলাদী(বরিশাল) প্রতিনিধি
মুলাদীতে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই সেতু নির্মাণের অভিযোগ, কাজ বন্ধ করলেন মালিকেরা
গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নির্মাণাধীন সেতু এলাকার মুলাদী-মৃধারহাট সড়কে মানববন্ধন করেন জমির মালিকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালের মুলাদীতে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই তালুকদারহাট-পাতারচর সেতু নির্মাণের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জমির মালিকেরা সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। পরে তাঁরা বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নির্মাণাধীন সেতু এলাকার মুলাদী-মৃধারহাট সড়কে মানববন্ধন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তিন বছর আগে নয়াভাঙনী নদীতে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করলেও পূর্বপাড়ের জমি অধিগ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন মালিকেরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্মাণাধীন সেতু এলাকার জমির মালিক সুমন মল্লিক, রাকিবুল ইসলাম নিপু সিকদার, আবুল হোসেন সরদার, আলমাস ব্যাপারী, নুরুজ্জামান সরদার, আনিসুর রহমান ব্যাপারী, আলী মুনসুর লোকমান, আলাউদ্দিন ব্যাপারী প্রমুখ।

জমির মালিক সুমন মল্লিক জানান, পাতারচর এলাকায় একটি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তালুকদারহাট (খেজুরতলা) ও উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগের জন্য নয়াভাঙনী নদীতে প্রায় ২৮০ মিটার দীর্ঘ সেতু বরাদ্দ হয়। প্রায় ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সেতু নির্মাণের কাজ ২০২৩ সালে শুরু করে এলজিইডি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ সেতু নির্মাণ শুরুর আগে কিংবা পরে জমি অধিগ্রহণ করেনি।

জমির মালিক রাকিবুল ইসলাম নিপু সিকদার বরেন, সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নদীর পূর্ব পাড়ের জমির মালিকেরা অধিগ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে লিখিতভাবে আবেদন করেন। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রাখে। তাই মালিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

আনিসুর রহমান ব্যাপারী বলেন, সেতুর কাজ শুরুর আগেই অধিগ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। জনকল্যাণে সেতু নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় মালিকেরা তিন বছর ধরে কিছু বলেননি। বর্তমানে সেতুর কাজ শেষের দিকে। তাই বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসন ও এলজিইডির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কাজ বন্ধ করে দিয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে।

সেতু নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহফুজুর রহমানের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। জমি মালিকেরা সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ করায় শ্রমিকেরা বেকার সময় কাটাচ্ছেন। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সেতু নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নথিপত্র দেখে বলা যাবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর আগেই জমি অধিগ্রহণ হওয়ার কথা। ওই সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে কি না জানা নাই। মালিকদের মানববন্ধনের বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত