Ajker Patrika

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: নীতিমালার জটিলতায় আটকে আছে ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতি

  • শিক্ষকদের অভিযোগ, উপাচার্য নানান অজুহাতে পদোন্নতি ঠেকিয়ে রেখেছেন
  • উপাচার্য বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা বাস্তবায়িত না হওয়ায় আটকে আছে পদোন্নতি
  • পদোন্নতি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের দূরত্ব বাড়ছে
খান রফিক, বরিশাল 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: নীতিমালার জটিলতায় আটকে আছে ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতি
ফাইল ছবি

নীতিমালাসংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রায় ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতি। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম নানা অজুহাতে শিক্ষকদের পদোন্নতি ঠেকিয়ে রেখেছেন। আর উপাচার্য বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি হওয়ার কথা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এটা বাস্তবায়ন করতে না পারায় আটকে আছে পদোন্নতি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিতে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ববিতে ২৪ অধ্যাপক পদে, ৩০ সহযোগী অধ্যাপক পদে এবং ৬ সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির দাবি করে আসছেন। এই দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের দূরত্বও বেড়েছে।

৯ এপ্রিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত উপাচার্যের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ‘আমাদের ১৩টি বিভাগের ২৪ শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ড গত বছরের ১ নভেম্বর সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলেও গত সাড়ে পাঁচ মাসে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। এভাবে অধ্যাপকসহ অন্যান্য পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া বন্ধ থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত। পদোন্নতি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট হচ্ছে না, তাঁরা গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারছেন না। শিক্ষকেরা মানসিকভাবে অসহায় ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।’

একই অভিযোগ তুলে উপাচার্যকে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম এবং মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সিরাজিস সাদিক বলেন, ‘আইন অনুযায়ী, ৬ মাস আগে আবেদন করেছি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির জন্য। ইতিপূর্বে যে আইনে পদোন্নতি হয়েছে তাতে ভিসি রাজি হচ্ছেন না। কিন্তু আমাদের তো বঞ্চিত করতে পারেন না ভিসি। সিনিয়ররা এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছেন, তবে সুরাহা হয়নি।’

মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাইউম বলেন, ‘গত ৭-৮ মাসে অন্তত ৩০ বার ভিসির সঙ্গে বসেছি। বহুবার হাত ধরেছি, অনুরোধ করেছি স্যার আমাদের পদোন্নতি ঝুলিয়ে রাখবেন না। কিন্তু উনি শুধু ঘোরাচ্ছেন। আমরা বৃহস্পতিবার শিক্ষকেরা বসে চেয়েছিলাম রোববার ভিসির কার্যালয়ে তালা দেব। কিন্তু কেউ কেউ আর একবার ভিসির সঙ্গে বসার আহ্বান জানান। সে অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৮টায় উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠক আছে।’ এই বৈঠক থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

কেন উপাচার্য পদোন্নতি দিচ্ছেন না, এই প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক কাইউম বলেন, ‘ভিসি বলেছেন ইউজিসির আপত্তি আছে। তিনি পদোন্নতি দিলে তাঁর পেনশনের সমস্যা হবে। কিন্তু ইউজিসির আপত্তি অনুযায়ী যে অভিন্ন নীতিমালার কথা বলা হয়েছে, তাতেও আমরা পদোন্নতি পাই।’

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘যে নিয়মে শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাচ্ছেন তাতে ইউজিসির আপত্তি আছে। ইউজিসি বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত পত্র দিয়েছে ইউজিসি।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পদোন্নতি হতে হবে অভিন্ন নীতিমালায়। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ওই নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু আমরা এখনো করতে পারিনি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা, শারজা বন্দরে ফিরে যাচ্ছে

৪০ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের খরচ কত, ক্ষতিপূরণের আবেদনই পড়েছে ২৮২৩৭টি

ছেলেকে নিয়োগ দিতে সুন্দরগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের জালিয়াতি

যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া থেকে বেরোতে চায় মধ্যপ্রাচ্য, আলোচনায় নতুন নিরাপত্তা মডেল

ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব: ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা বলয়, দুই দিনের ছুটি ও ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত