Ajker Patrika

হাসপাতালে লোডশেডিং ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

খান রফিক, বরিশাল
হাসপাতালে লোডশেডিং ব্যাহত চিকিৎসাসেবা
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের রোগী ও চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের। গতকাল শিশু ওয়ার্ডে লোডশেডিংয়ের সময় এক স্বজন বাতাস করেন হাতপাখা দিয়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশালে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে রোগীদের ওপর। প্রতি এক ঘণ্টা পর লোডশেডিং হচ্ছে শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের নতুন ভবন এবং জেনারেল হাসপাতালে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে শত শত রোগী দুর্ভোগে পড়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গরমের মধ্যে দৈনিক ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ যায়। এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে পানির সংকটও দেখা দিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায, শেবাচিম হাসপাতালের মূল ভবনের সঙ্গে পূর্ব পাশে কয়েক বছর আগে নতুন আরেকটি ৫ তলা ভবন হয়েছে। সেখানে মেডিসিনের দুটি ইউনিট এবং দন্ত বিভাগ রয়েছে। এই ভবনে প্রতিদিন ৫ শতাধিক ভর্তি রোগী থাকে।

রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য, মূল ভবনে তেমন বিদ্যুৎ যায় না, কিন্ত নতুন ভবনে লোডশেডিং লেগেই থাকে। অথচ জেনারেটর সুবিধা নেই নতুন ভবনে। এতে রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। এর মধ্যে টয়লেটে পানি থাকে না।

গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন বানারীপাড়ার আ. রহমান জানান, কিছুক্ষণ আগে বিদ্যুৎ এসেছে। অর্থাৎ বেলা ১টা থেকে দুই ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না।

মেডিসিন ওয়ার্ডে কথা হয় একাধিক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, রোগের সঙ্গে এখন রোগীদের নতুন কষ্ট যোগ হয়েছে। আর রোগীর সেবা দিতে এসে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে অনেকে।

রোগীর স্বজনেরা জানান, দিনরাত মিলিয়ে কমপক্ষে ৪ বার বিদ্যুৎ যায়। প্রতিবার কমপক্ষে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। বুধবার রাত ৯টায় বিদ্যুৎ গেলে আসে রাত ১২টায়। তখন অচল থাকে নতুন ভবনের ৪টি লিফট।

মেডিসিন ওয়ার্ডের একজন সিনিয়র নার্স বলেন, বিদ্যুৎ বন্ধ হলে এই ভবনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে কেন নেই, সেটা তিনি জানেন না।

জানতে চাইলে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনের বিদ্যুতের দুটি ফিডারের সংযোগ থাকায় এই ভবনে দুর্ভোগ কম। মাঝে মাঝে দুটি ফিডারে লোডশেড হলে একটি দ্রুত সময়ে চলে আসে। অপরদিকে নতুন ভবনে মাত্র একটি ফিডারের সংযোগ। সেটিতে লোডশেডিংয়ের সময়ে ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়।

বিকল্প ব্যবস্থা প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, জেনারেটর আছে। তবে জ্বালানি খাতে বরাদ্দ নেই। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য গণপূর্ত বিভাগ অন্য খাত থেকে হাসপাতালে অল্প পরিমাণ জ্বালানি দিচ্ছে। ওই জ্বালানি দিয়ে শুধু জরুরি অস্ত্রোপচারে সীমিত সময়ের জন্য জেনারেটর চালানো হয়।

এদিকে সদর হাসপাতালের অবস্থা আরও ভয়াবহ। টিনশেড ঘরে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড। কক্ষটির জন্য নির্ধারিত শয্যা ৪টি। রোগীর চাপে আরও ৮টি শয্যা দেওয়া হয়েছে। ১২ শয্যার কক্ষটিতে অর্ধশত রোগী ও স্বজন।

সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কথা হয় রোগীর স্বজন মো. হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মাকে ভর্তি করিয়েছেন।

বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময় হাসানের মতো ওয়ার্ডের সব স্বজন হাতপাখা দিয়ে রোগীকে বাতাস দিচ্ছিলেন।

জানা গেছে, এই হাসপাতালে জেনারেটর নেই। ফলে বিদ্যুৎ বন্ধ হলে হাসপাতালের পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগী ও স্বজনেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতালে মাত্র একটি ফেজের বিদ্যুৎ-সংযোগ। এই ফেজে লোডশেডিংয়ের সময়ে পুরো হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আরেকটি ফেজের সংযোগ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

বিকল্প ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতালের একটি জেনারেটর ছিল। অনেক আগে সেটি বিকল হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় সেটি সচলের চেষ্টা করেছি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত