
পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গারা বান্দরবানে অনুপ্রবেশ করে কম মজুরিতে শ্রমিকের কাজ করছে। এর ফলে স্থানীয় বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয়দের সঙ্গে চেহারা ও ভাষাগত তেমন পার্থক্য না থাকায় কাজের সন্ধানে সহজে সীমান্ত পেরিয়ে বান্দরবানে চলে আসছে রোহিঙ্গারা। অনেকে কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বান্দরবানে চলে আসছে। আর স্থানীয় মালিক ও ঠিকাদাররা কমদামে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন কাজের জন্য। রোহিঙ্গাদের কারণে দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয়ের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা আবার ক্যাম্প ছেড়ে এসে এখন জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার বাগানে বসবাস করছে। এতে শুধু শ্রমবাজার দখল নয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও তারা জড়িয়ে পড়ছে।
বেশির ভাগ রোহিঙ্গা নির্মাণকাজ, কৃষিখেত, ইটভাটা, পাথর উত্তোলন, মাটি কাটা, অটোরিকশা, খাবারের হোটেল, আবাসিক হোটেল, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ, কাঠ কাটা ও বহন, আমবাগান, রাবারবাগান, তামাকখেত, মৎস্য প্রজেক্টে শ্রমিকের কাজ করছে। তা ছাড়া, বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজও দখল করে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা।
বান্দরবানের সুয়ালক এলাকায় কর্মরত ভাসমান শ্রমিক রোহিঙ্গা হোসেন আলী বলেন, ‘আমরা যেকোনো ভারি কাজ করে থাকি, যা এখানকার বাঙালিরা পারে না। আমরা বেতনও কম নিয়ে থাকি।’
সরেজমিনে সদরের রেইছা এলাকায় দেখা যায়, রেইছা বাজার, ভান্ডারিপাড়া ও গোয়ালিয়া খোলা এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে রোহিঙ্গারা পাহাড়ের গাছ কাটছে। রোহিঙ্গা শ্রমিক দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের গাছ কাটার জন্য মাঝি নিয়ে এসেছে। আমরা কাজ করে চলে যাই। অনেকে এখানের বিভিন্ন পাহাড়ে বাস করেন।’
গোয়ালিয়া খোলা এলাকার স্থানীয় শ্রমিক মো. কামাল জানান, রোহিঙ্গারা কাজ করার ফলে স্থানীয়রা সপ্তাহে তিন দিন কাজ পেলে অন্য চার দিনই কাজ পান না।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের বাসিন্দা রুপলা ধর জানান, ঘুমধুমে স্থানীয় কোনো শ্রমিক পাওয়া যায় না। মূলত রোহিঙ্গা শ্রমিকরাই কম বেতনে কাজ করে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রাবার বাগানে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিক সাইদ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের দৈনিক কাজের মজুরি কমপক্ষে ৭০০-৮০০ টাকা, অন্যদিকে রোহিঙ্গারা সেই কাজ ৪০০-৫০০ টাকায় করে। তাই স্থানীয়রা কাজ হারাচ্ছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ বিজিবির ব্যাটালিয়ন সীমান্ত ৭১ কিলোমিটার ও জোনের অধীনে ৯৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই জোনের অধীনে নিকুছড়ি থেকে তীরের ডিব্বা পর্যন্ত বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে ১৪টি। আর বান্দরবানের ঘুমধুম থেকে মনজয়পাড়া পর্যন্ত বিওপি রয়েছে ৮টি। এরপর সীমান্ত পিলার ৫৫ থেকে আলীকদম ৬৮ নম্বর পোয়ামুহুরী পর্যন্ত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (অরক্ষিত) রয়েছে, ফলে নাইক্ষ্যংছড়ির আশারতলী, ফুলতলী, লেমুছড়ি, চাকঢালা, ঘুমধুম সীমান্ত; অন্যদিকে আলীকদমের করুকপাতা ও পোয়ামুহুরির বিভিন্ন ঝিরি দিয়ে মিয়ানমাব থেকে এই দেশে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করে। এ ছাড়া কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবির ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা পালিয়ে বান্দরবানে কাজের সন্ধানে আসছে। আগে কাজের সন্ধানে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলীকদমে রোহিঙ্গারা বেশি অবস্থান করলেও এখন তারা কাজের সন্ধানে বান্দরবান শহর হয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচিতে প্রবেশ করছে।
এ বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের আটক করছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে তথ্য থাকলেও আমাদের জানাবেন।’
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি নীলিমা আক্তার নীলা বলেন, দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থান কম। যেভাবে রোহিঙ্গারা কর্মসংস্থান দখল করছে, তাতে বান্দরবানের মানুষ কর্ম হারাচ্ছে। এই বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

পুকুর লিজ ও পুরোনো মালপত্র বিক্রিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হলো না রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘কাছের লোকদের’ ডেকে মালপত্র বিক্রি ও পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিংও করা
১ ঘণ্টা আগে
কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে তখন তা কমানোর বদলে বাড়ানোর পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি খোদ ফসলের খেতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে কীটনাশক কোম্পানিগুলোর। ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি এ চিত্র দেখা গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতু সরিয়ে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় চার বছর আগে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় দুই বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন।
২ ঘণ্টা আগে
‘আমার শিশুসন্তানেরা অসুস্থ হয়ে গেছে, তাদের চিকিৎসা দরকার। ঠিকমতো খাবারও খাওয়াতে পারছি না। ওদেরকে কীভাবে বাঁচাই! আমরা বাঁচতে চাই।’ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ৬ মাস আর ৪ বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান নিয়ে এভাবেই আকুতি জানান সুমি আক্তার। চোখে অসহায়ত্ব, মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছাপ।
২ ঘণ্টা আগে