Ajker Patrika

শিক্ষকদের চাঁদায় ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে’ সভা, এমপিকে সংবর্ধনা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ২১: ২৪
শিক্ষকদের চাঁদায় ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে’ সভা, এমপিকে সংবর্ধনা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুল আজিজকে শিক্ষকদের চাঁদার টাকায় সংবর্ধনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার দিনব্যাপী গুরুদাসপুর উপজেলা চত্বরে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এ সংবর্ধনা ও ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে সভা’ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উপজেলার ৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি মাদ্রাসা ও ১০টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী ২ হাজার, ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ও শহীদ মবিদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তোলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এমপি আব্দুল আজিজকে সংবর্ধনা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৭৬৭ জন শিক্ষক ও অতিথিদের আপ্যায়ন, মঞ্চ নির্মাণ ও সাজসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের খরচ মেটাতে এ টাকা তোলা হয়েছে।

ইউসুফ আলী জানান, অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বজলুর রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়। সবার সম্মতিতে প্রতিষ্ঠানভেদে চাঁদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বলেন, সংবর্ধনা সংসদ সদস্যের। ক্রেডিট নেবে মাধ্যমিক শিক্ষ অফিস ও প্রশাসন। অনুষ্ঠানের ব্যয়ের টাকা তাদের দেওয়া উচিত। কিন্তু শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন বেশির ভাগ শিক্ষকের কাছে অতৃপ্তিদায়ক। তবু প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অনেক শিক্ষক চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আয়োজক কমিটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষক জানান, অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ ৭৬৭ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দুপুরের খাবারের জন্য প্রতিটি প্যাকেটে প্রায় ২০০ টাকা ব্যয় হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে উত্তোলিত চাঁদার চেয়ে মোট ব্যয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ এবং এমপিকে খুশি করার কথা বলে ইচ্ছা না থাকলেও তাঁদের ওই টাকা দিতে হয়েছে।

শিক্ষকেরা জানান, বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। নানা আনুষ্ঠানিকতার পর সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের নামাজের বিরতির পর বেলা ২টার দিকে দ্বিতীয় পর্বে সংসদ সদস্য সমাপনী বক্তব্য দেন। পৌনে ৩টার দিকে শিক্ষকদের মধ্যে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার বলেন, সরকারের নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহায়তায় করণীয় এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিতে ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে সভা’ আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দাপ্তরিক ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় শিক্ষকেরা অনুষ্ঠানের ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

তবে চাঁদা তুলে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, চাঁদা তুলে অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়টি জানা নেই। এমনটা জানলে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দিতেন না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত