Ajker Patrika

বরিশালে এজলাসে ভাঙচুর: ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিল চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে এজলাসে ভাঙচুর: ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিল চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন
গতকাল দুপুরে বরিশাল সিএমএম কোর্ট এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি বরিশাল মহানগর দায়রা জজের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের সনদ বাতিলের আবেদন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর পাঠিয়েছেন বরিশাল মহানগর দায়রা জজ। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও আবেদন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্প‌তিবার আদালতের একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আলোচিত ১২ আইনজীবীর সবাই বিএনপি নেতা এবং তাঁদের মধ্যে ৪ জন পিপি, ৩ জন অতিরিক্ত পিপি এবং ৩ জন সহকারী পিপি।

তাঁরা হলেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বরিশালে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলেও বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪৫টি কোর্টে বিচারকাজ সচল ছিল। এ সময় বিচারপ্রত্যাশী বাদী-বিবাদীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। সিএমএম কোর্টের নাজির কামরুল ইসলাম জানান, বিচারপ্রত্যাশীরা আসার কারণে কোর্ট চলমান রয়েছে। আইনজীবীরা না এলেও মামলার বাদী-বিবাদীদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিচারকেরা। এতেই মিলছে জামিন। সিএমএম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তালিকাভুক্ত ৫৭ মামলার মধ্যে ৪০টির শুনানি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তাঁকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। বেলা ২টার দিকে তাঁরা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এর নেতৃত্ব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন। ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হামলার ঘটনার পরদিন বুধবার ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করেন মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দেশে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা

পুলিশ হত্যার তদন্ত হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও তদন্ত হবে: মির্জা ফখরুল

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের, কাবুলে বিমান হামলা

নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যায় বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

ফের কেন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল পাকিস্তান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত