Ajker Patrika

পুরান ঢাকার চকবাজার

ইফতারির মান ও দামে অসন্তোষ

জয়নাল আবেদীন, ঢাকা
ইফতারির মান ও দামে অসন্তোষ
পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতার বাজারের বয়স প্রায় ৩০০ বছর। ঐতিহ্যবাহী এই বাজারে বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৩০ লাখ টাকার ইফতারি বিক্রি হয়। যদিও খাবারের দাম ও মান নিয়ে অভিযোগ আছে ক্রেতাদের অনেকের। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রতি রমজানে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় বসে ইফতার বাজার। এখানে বর্তমানে গড়ে দৈনিক ৩০ লাখ টাকার ইফতারি বিক্রি হয়। তবে দিন দিন খাবারের দাম বাড়ছে এবং মান কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

বলা হয়ে থাকে, ঐতিহ্যবাহী এই বাজারের বয়স প্রায় তিন শ বছর। কথিত আছে, মোগল আমলে সুবেদার শায়েস্তা খানের নির্দেশে শাহি মসজিদ নির্মাণের পর থেকে এই আয়োজন দেখা যায়। বর্তমানে চকবাজারের জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে সুতি কাবাব, জালি কাবাব, টিকা কাবাব, মোরগ পোলাও, লাবাং, পরোটা, শাহি কাবাব, নেহারি, বোরহানি, বড় বাপের পোলায় খায়, শাহি জিলাপি, কাচ্চি বিরিয়ানি, ছানামাঠা, হালিমসহ নানান পদের খাবার। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল থেকে অলিগলিতে ভিড় উপচে পড়েছে। রঙিন আলোকসজ্জা আর সুগন্ধে ভরে উঠেছে চারপাশ। চকবাজারের ইফতারির মধ্যে চিকেন নান ৭০, দুধ নান ৫০, গার্লিক নান ৬০, চিকেন মালাই রেশমি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আস্ত হাঁসের মাংস ৩ হাজার এবং খাসির লেগ রোস্ট প্রতিটি ৮০০ টাকা। সুতি কাবাব (গরু, খাসি) ১২০০ এবং শাহি জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া জনপ্রিয় পানীয়ের মধ্যে পেস্তা বাদামের শরবত ২২০ এবং মহব্বতের শরবত ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।

এই এলাকার অন্যতম আলোচিত খাবার হচ্ছে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। ঐতিহ্যবাহী এই বাজারে খাবারটি ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে যুক্ত হয় বলে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান। তবে ঐতিহ্য মেনে বাজার বসলেও, মান পড়তির দিকে বলে অভিযোগ করেছেন ইফতারি কিনতে আসা একাধিক ব্যক্তি। মনোয়ার নামের এক ক্রেতার অভিযোগ, চকবাজারের ইফতারির মান হারিয়ে গেছে। এখন সবকিছুতে ভেজাল। শিমুল নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের বাবা-দাদারা এখান থেকে ইফতারি নিয়েছেন। আমরাও আসি। কিন্তু ইফতারির সেই মান এখন আর পাওয়া যায় না।

মানের পাশাপাশি দাম নিয়েও অভিযোগ জানান ক্রেতারা। এক ব্যক্তি বলেন, ইফতারির দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। আর যেগুলোর দাম নাগালের মধ্যে, সেগুলোতে হয় পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছে অথবা মান ততটা ভালো না।

তবে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিক্রেতারা। মোহাম্মদ জুয়েল নামের এক দোকানদার বলেন, শাহি জিলাপির দাম ঠিকই আছে। তবে বেচাকেনা গতবারের তুলনায় কম। একটি কাবাব দোকানের মালিক মো. রানা বলেন, বাজারের যে অবস্থা, তাতে সবারই কেনার সক্ষমতা আছে। বিক্রেতা মো. ইমন বলেন, এখানে দামি খাবার যেমন আছে, তেমনি কম দামের খাবারও আছে। ধনী, গরিব সবাই তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ক্রয় করছে।

তবে মান ও দাম নিয়ে যত অসন্তোষ থাকুক, বেচাবিক্রি কিন্তু থেমে নেই। স্থানীয় দোকানমালিক মো. রুবেল জানান, শুধু তাঁদের দোকানেই দৈনিক ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকার খাবার বিক্রি হয়। তিনি ধারণা করেন, এই বাজারে অন্তত ১০০ দোকান রয়েছে। তাই দৈনিক বিক্রি টাকার অঙ্কে ৩০ লাখের বেশি হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত