Ajker Patrika

মেহেরপুরের গাংনী

ভাটার মাটিতে সড়ক নষ্ট

  • ইটভাটায় নেওয়ার সময় ট্রাক্টর থেকে সড়কে মাটি পড়ে কাদার আস্তরণ সৃষ্টি হয়।
  • বর্ষার মৌসুম এলে রাস্তাগুলোতে কাদা বেড়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা।
  • উপজেলায় ৪০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে; একটিরও বৈধতা নেই।
রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর) 
ভাটার মাটিতে সড়ক নষ্ট
গাংনী উপজেলার পোড়াপাড়া এলাকায় মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়ক কাদামাটি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা

ইটভাটার মাটির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন পাকা সড়ক। অন্যদিকে মাটিবোঝাই ট্রাক্টরের কারণেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, একদিকে ট্রাক্টরের মাটি রাস্তায় পড়ে ধুলাবালুতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো। বর্ষার মৌসুমে রাস্তাগুলোতে কাদা বেড়ে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

জানা গেছে, ট্রাক্টরে করে ইটভাটায় মাটি নেওয়ার সময় সড়কে মাটি পড়ে এবং চাকার সঙ্গে লেপটে থাকায় রাস্তায় কাদার আস্তরণ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পিচ্ছিল হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বামন্দী, বালিয়াঘাট ও পোড়াপাড়া এলাকার বিভিন্ন সড়কে ট্রাক্টর থেকে পড়া মাটিতে কাদা জমেছে। এতে যানবাহন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ জনগণ।

স্থানীয়রা বলেন, গাংনী উপজেলার প্রায় প্রতিটি সড়কেই ইটভাটার কাজে ব্যবহারের জন্য মাটি ট্রাক্টরে করে নেওয়া হয়। ভাটায় সরবরাহ করা মাটি পড়ে রাস্তার যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শহর থেকে গ্রামীণ জনপদে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্রাক্টর। এসব ট্রাক্টরের বৈধ রুট পারমিট নেই। তা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়ে দেখভাল না করার কারণে শিশু-কিশোরেরা এসব ট্রাক্টর অবাধে চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

মোটরসাইকেলচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করি। পাশে ইটভাটা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদামাটিতে সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। চলাচল করতেও খুব ভয় লাগে, কখন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রামের ভেতর দিয়ে যে সরু রাস্তাগুলো রয়েছে, ট্রাক্টরের মাটি পড়ে সেগুলোও এখন চলাচলের উপযোগী নয়। এ রাস্তাগুলো ভয়াবহ রূপ নেবে হালকা বৃষ্টি হলেই।’

মোটরসাইকেলচালক লিটন মাহমুদ বলেন, ট্রাক্টর ও ট্রলিতে মাটি বহন করার কারণে একদিকে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তাঘাট ধ্বংস করছে ট্রাক্টর ও ট্রলির মাটি। তিনি বলেন, মাটি বহনের কারণে কোনটি কাঁচা, আর কোনটি কার্পেটিং রাস্তা—বোঝার কোনো উপায় নেই।

অটোরিকশাচালক মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘অটো নিয়ে যখন রাস্তা দিয়ে যাই, তখন মনে হয় যেন মাটির রাস্তা দিয়ে যাই অথচ রাস্তাটি পিচ করা। হালকা বৃষ্টি হলে রাস্তাগুলো পুরো কাদায় পরিণত হবে।’

মাটি বহনের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাক্টরচালক বলেন, ‘আমরা ড্রাইভার। আমরা পেটের তাগিদে কাজ করি। মালিক আমাদের যেভাবে বলেন, সেভাবে কাজ করে থাকি।’

মেহেরপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ কামাল মেহেদী বলেন, ‘গাংনী উপজেলায় ৪২-৪৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর একটিরও বৈধতা নেই। আমরা এর আগে অভিযান পরিচালনা করেছি। আমরা দ্রুত এই অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা না করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি। যারা ইটভাটার মাটি বহন করে রাস্তা নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত