Ajker Patrika

সিলেটের পুরোনো কারাগারের জায়গায় হবে পার্ক ও জাদুঘর

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৩৩
সিলেটের পুরোনো কারাগারের জায়গায় হবে পার্ক ও জাদুঘর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সভা। ছবি: সিসিকের সৌজন্যে

সিলেট নগরীর বুক থেকে অবশেষে সরে যাচ্ছে পুরোনো কারাগার। দুই শতাধিক বছর ধরে কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত সেই জায়গায় গড়ে উঠবে নান্দনিক পার্ক। পাশাপাশি সিলেটের কৃতী সন্তান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) জনসংযোগ দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় সিলেট-১ আসনের এমপি ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের আবদ্ধ জায়গা এবার হবে উন্মুক্ত

সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় ১৭৮৯ সালে কেন্দ্রীয় কারাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এক দশক আগে শহরতলির বাদঘাট এলাকায় নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে নগরীর বুক থেকে পুরোনো কারাগার সরিয়ে একটি উদ্যান গড়ার দাবি ছিল। এবার সেই জায়গা উন্মুক্ত হবে নগরবাসীর জন্য। সেখানে থাকবে সবুজের সমারোহ, হাঁটার পথ ও স্বস্তির পরিসর।

পুরোনো কারাগারের স্থানে একটি নান্দনিক বিনোদন পার্ক নির্মাণ ছিল এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে নগরবাসীকে এই জায়গায় পার্ক নির্মাণের কথা বলেছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি এবং সিসিক প্রশাসক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে ডিও লেটার পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে ভূমিটি সিসিকের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়।

আজকের সভায় সেই প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জন্য ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো কারাগারের এই জায়গায় সিটি করপোরেশন কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে না।

এক পাশে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

নান্দনিক পার্কের পাশাপাশি কারাগারের স্থানে নির্মাণ করা হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এতে স্থানটি হয়ে উঠবে ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। একদিকে থাকবে সবুজের প্রশান্তি। অন্যদিকে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার স্মারক। নতুন প্রজন্ম এখানে বিনোদনের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে তাদের পরিচয় আরও গভীর হবে।

সিসিক প্রশাসকের কৃতজ্ঞতা

পুরোনো কারাগারের জায়গায় পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জন্য ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পুরোনো কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক হবে। এক পাশে হবে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। অচিরেই পার্ক ও জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কারাগারের সব বন্দিকে বিদ্যমান কারাগারে স্থানান্তরের পর পুরো জায়গাটি ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ পার্কে রূপ দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত