
রাজধানীর বেইলি রোডে ঝলমলে আলোকসজ্জার দোকান আর বিলাসী ইফতার আয়োজনে ব্যস্ত বিক্রেতা। ক্রেতার ভিড়ও বেশ। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে জমে উঠেছে এখানকার ইফতার বাজার। প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে নানান পদের ইফতারসামগ্রীর দেখা মিলেছে। তবে এই এলাকার ইফতারির দাম সাধারণ বা নিম্ন আয়ের মানুষের ‘নাগালের বাইরে’ বলে মনে করছেন অনেক ক্রেতা।
আজ শুক্রবার ছিল পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় দিন। এদিন বেইলি রোডের স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানে দেখা গেল চিকেন বল, নাগা শিঙাড়া, ফ্রাইড চিকেন, গুড়ের জিলাপি, জাফরানি শরবত, হরিয়ালি, মালাই বটি, কলিজা ভুনা, পানির পরোটা, ছুলা ভুনা, হালিম, তেহারিসহ নানা খাবার। এসব খাবারের দাম ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। মাহবুবে সোবাহানি নামের এক ক্রেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, গতবারের তুলনায় এবার একটু দাম বেশিই।
৫০ বছর ধরে বেইলি রোডে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করে আসছে ক্যাপিটাল ইফতার বাজার। সেখানে দেখা যায়, নাগা শিঙাড়া ১৫, চিকেন বল ৫০, চিকেন রোল পিচ ৩০, ডোরি ফিশ ৩০, ফ্রাইড চিকেন ৮০, চিকেন সমুচা ৩০ টাকা, স্কুইড ফ্রাইড ২০, ভেজিটেবল পাকোড়া ৩০, চিকেন বিজ বল ৫০, থাই চিকেন ফ্রাই ৮০, জাফরানি শরবত (বড়) ১২০, চিকেন শর্মা ১২০, নার্গিস কোপ্তা ৬০, খাজা ২০, দই বড়া (৪ পিস) ২০০, গুড়ের জিলাপি কেজি ৮০০, বিফ শিক কাবাব ২২০, চিকেন রেশমি ২৮০, হরিয়ালি ২৮০, কাশ্মীরি ২৮০, চিকেন বটি ও মালাই বটি ২৬০, পরাটা রোল (চিকেন) ১৫০, বোরহানি ছোট (৫০০ গ্রাম) ১০০, লাবাং ১০০, চিকেন সাসলিক পিস ১২০, বুন্দিয়া কেজি ৪০০, জাফরানি ঘি জিলাপি কেজি ৫০০ ও গুড়ের জিলাপি ৮০০ টাকা। সঙ্গে বিক্রি করছেন মিক্স সালাদও; যা প্রতি গ্রাম ৯৯ পয়সা।
এ ছাড়া বিখ্যাত পনির পরোটা ১২০ টাকা, কিমা পরোটা ১০০, মাটন লেগ রোস্ট পিস ৭০০, চিকেন রোস্ট (জাম্বু) ফুল ৫০০, চিকেন রোস্ট (দেশি) ৪০০, মাটন কলিজা ভুনা কেজি ১ হাজার ৬০০, বিফ ব্রেইন মসলা (২০০ গ্রাম) ৪০০, চিকেন ঝাল ফ্রাই কেজি ১০০০, বিফ ভুনা কেজি ১ হাজার ২০০, বিফ কালা ভুনা কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা।

অনেকের মতে, বেইলি রোডে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পছন্দের ইফতার কেনা কঠিন। নিরাপত্তাকর্মী আনিসুর রহমান বাবুল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যাদের পয়সা আছে, তারা ওসব দামি দামি খাবার খায়। আমরা দরদাম করে রাস্তা থেকে ছোলা, চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি কিনে ইফতার করি।’
পাশে থাকা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘তিন-চারজন মিলে আমরা ইফতার করলে প্রতি ইফতারে ৪০ টাহার মতো খরচ হয়। ওই সব দোহান থাইকা বড়লোকের ইফতারে প্রতিদিনের যে খরচ হয়, সেই টাহায় আমাগোর ঈদের বাজার হয়ে যায়।’

বেইলি রোডে নবাবী ভোজ, কাচারী বাড়ি, ফখরুদ্দিন বিরিয়ানির দোকানসহ বেশ কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ছুলা ভুনা ৪১০ টাকা; হালিম বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকায়। নবাবী দই বড়া পিস ৪৫০ টাকা, চিকেন কাঠি কাবাব ২০০ টাকা। এ ছাড়া গরুর ভুনা কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট ১ হাজার ৮০০, কাচ্চি বিরিয়ানি (ফুল) ৫০০, গরুর তেহারি ৪২০ ও শাহি ফিরনি (বড়) ২৫০ টাকা। এ ছাড়া ডেইলি পিঠাঘরে দেখা যায়, বারবিকিউ রোল পিস ১৪০ টাকা, তিল পিঠা পিস ৪০, বিবিখানা পিঠা ৬৫, ক্ষীর কুলি পিঠা পিস ৪৫, মাল পোয়া পিঠা ৫০, শাহি রস পাকন পিঠা ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এত দামে যে কেউ কিনছেন না, এমনটা নয়। ইফতারের আগমুহূর্তে দোকানগুলোয় ভিড় বাড়ছে, আর বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইফতার ক্রেতা মো. জহুরুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার বাচ্চাসহ পরিবারের অনেকে ইফতার কিনতে এসেছি। আগের তুলনায় খুব একটা বেশি দাম বাড়েনি।’
নবাবী ভোজের দোকানের ব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৪ থেকে প্রায় ১২ বছর ধরে আমরা বিক্রি করে আসছি। গত বছরের তুলনায় ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে একই মূল্য রাখছি। তবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে দু-একটা খাবারের দাম বেড়েছে।’
বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কিট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারী সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ধারণ করি, সেটাই এখানে বিক্রি করা হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যের সঙ্গে দাম বাড়াইনি।’

যশোরের শার্শায় পল্লিচিকিৎসক আলামিন হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। তবে আজ শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত আলামিনের দুই স্ত্রীসহ চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
আপনাদের দেখার দরকার নেই—কে বিএনপি, কে আওয়ামী লীগ, কে জামায়াত করে। কেউ যদি দোষী হয় তাকে আইনের আওতায় আনুন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। গত ১৭ বছরে দেশে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না।
৩ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর মগবাজার ও জুরাইন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেলে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমানের উত্তরার বাসায় এক শিশু গৃহকর্মীকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ওই বাসারই আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি...
৪ ঘণ্টা আগে