Ajker Patrika

গৃহকর্মী নির্যাতন: রিমান্ডে ‘স্বীকারোক্তি’ দিলেও আদালতে জবানবন্দি দিলেন না বিমানের সাবেক এমডি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
গৃহকর্মী নির্যাতন: রিমান্ডে ‘স্বীকারোক্তি’ দিলেও আদালতে জবানবন্দি দিলেন না বিমানের সাবেক এমডি
বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমানের উত্তরার বাসায় এক শিশু গৃহকর্মীকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ওই বাসারই আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাফিকুর রহমান।

আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবেরুনী মীরের খাস কামরায় জবানবন্দি দেন সুফিয়া বেগম।

রিমান্ডে শেষে সাফিকুর রহমান ও সুফিয়া বেগমকে আদালতে হাজির করে উত্তরা থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল মিয়া দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। পরে তাঁদের বিচারকের খাস কামরায় নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর সাফিকুর রহমান আদালতকে বলেন, তিনি জবানবন্দি দেবেন না। পরে আদালত গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপরে আদালত দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানকে পাঁচ দিন ও সুফিয়া বেগমকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। পরে তাঁদের কারাগার থেকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দুজনই গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন। তারা স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, ১ ফেব্রুয়ারি ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীর বাবা গোলাম মোস্তফা উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তা কর্মী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে বাবা গোলাম মোস্তফা গত বছরের জুনে তাঁর মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান।

সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর তাকে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তাঁর মেয়ে অসুস্থ, তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন বীথি।

গোলাম মোস্তফা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তাঁর মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিমানের এমডির স্ত্রী বীথি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাঁকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত