
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে ৮৯টি এবং ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। এ কারণে ২১ ফেব্রুয়ারির দিন নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বও অনেক শিক্ষার্থী অনুধাবন করতে পারছে না।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম বলে, ‘ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে চাই। কিন্তু আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নাই।’
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া খাতুন বলে, ‘শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ফুল দেওয়ার পর শিক্ষকেরা ভাষাশহীদদের নিয়ে যে ইতিহাস তুলে ধরেন, সেই ইতিহাস আমাদের সকলের জানা দরকার। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয় আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার না থাকায় আমরা শহীদদের স্মরণে ফুল দিতে পারি না।’
কলেজশিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলে, ‘আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনার হোক। সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর একটা উদ্যোগ গ্রহণ করুক।’
আশাদুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করার ব্যাপারে সরকারিভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যাঁরা আছেন, তাঁরা যদি এগুলো নিয়ে কাজ করেন, তাহলে আস্তে আস্তে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার হবে বলে মনে করি।’
ডি জে এম সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাংনী উপজেলায় সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত সময়ের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের জোর দাবি করছি। এ ব্যাপারে যদি সরকার উদ্যোগ নেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে আরও আগ্রহী হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করার বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। আশা করি, এ বিষয়ে সুনজর দেবে সরকার।’
বামন্দী নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাজ্জাদুল আলম বলেন, বামন্দী নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে শহীদ মিনার রয়েছে। এ রকম শহীদ মিনার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা দরকার।
গাংনী উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গাংনী উপজেলায় ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দও আসে না। শহীদ মিনার না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পারছে না। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গাংনী উপজেলায় কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে ৮৯টি। এর মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। শহীদ মিনার তৈরির ব্যাপারে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ দায়িত্বে এগুলো করে থাকে। তবে সরকার যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গাংনী উপজেলায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। আর শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা এর প্রকৃত ইতিহাস জানা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদ্বোধন করা হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রাজশাহী নগরের সোনাদীঘির পারে পুরোনো ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের প্রায় এক একর জায়গায় নির্মিত হয়েছে স্থায়ী এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
২৭ মিনিট আগে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশাচালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরব বাজার এলাকায় মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
ছয় বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের বরাদ্দ নেওয়া প্রায় সাত একর (৩০ হাজার বর্গমিটার) জমির ভাড়া পরিশোধ করেনি সাইফ পাওয়ারটেকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ই-ইঞ্জিনিয়ারিং। পতেঙ্গা এলাকার এই জায়গার বিপরীতে ভাড়া ও ভ্যাট মিলিয়ে বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
৬ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় শিক্ষকসংকটে ধুঁকছে সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলো। উপজেলার অর্ধশত সরকারি প্রাথমিক স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভেঙে পড়ছে স্কুলগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা।
৭ ঘণ্টা আগে