Ajker Patrika

যশোর: হামে আক্রান্ত অধিকাংশ ৯ মাসের কম বয়সী

  • জেলায় ৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত।
  • ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনেরই বয়স ৯ মাসের কম।
  • ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের আক্রান্ত নিয়ে উদ্বেগ।
­যশোর প্রতিনিধি
যশোর: হামে আক্রান্ত অধিকাংশ ৯ মাসের কম বয়সী
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা। আজকের পত্রিকা

যশোর জেলার ৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। কিন্তু আক্রান্ত রোগীদের বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনের বয়স ৯ মাসের কম। অপর চারজনের বয়স এক বছরের বেশি। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের এমন আক্রান্তের তথ্যে উদ্বেগে পড়েছেন চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ৯ মাসের বেশি বয়সী যেসব শিশু হামে আক্রান্ত, তাদের হামের টিকা দেওয়া নেই। নিয়মানুযায়ী ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের হামে টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। এই শিশুরা মায়ের শরীরের ইমিউনিটি থেকেই প্রতিরোধ পাওয়ার কথা। কিন্তু কেন পাচ্ছে না, সেটি অধিকতর গবেষণার বিষয়।

যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে ১০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে বসন্ত রোগীর সংখ্যাও।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, পাঁচ শয্যার এই ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, হাম ও বসন্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে। হামের রোগীর জন্য দুটি শয্যা নির্ধারিত হলেও সেখানে ভর্তি আছে পাঁচজন। শয্যা না থাকায় সংক্রমণ রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে যশোর শিশু হাসপাতালে। সেখানেও বেড়ে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আলাদা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে হামের রোগী।

সদর উপজেলার বিরামপুর এলাকার রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স ১১ মাস। অসুস্থ থাকায় হামের টিকা দেওয়া হয়নি। ১২ দিন ধরে আমার ছেলে অসুস্থ। প্রথমে ঠান্ডাজনিত রোগী ভর্তি করেছিলাম। পরে হামে আক্রান্ত হয়েছে।’

শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার বাসিন্দা জুলিয়া খাতুন জানান, টিকার কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় ১৫ মাস বয়সী মেয়েকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়নি। জ্বর ও শরীরে লাল র‍্যাশ নিয়ে মেয়েকে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, শিশুটি হামে আক্রান্ত।

মনিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের উজ্জ্বল দাস জানান, তাঁর আট মাস বয়সী মেয়ের জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হামের সন্দেহে শিশু হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি মেয়েকে ভর্তি করান।

জানতে চাইলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক হোসাইন শাফায়েত বলেন, হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনটি শিশু ভর্তি রয়েছে। চিকিৎসার সব প্রস্তুতি রয়েছে।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, যশোরেও হামের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে জেলার সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নাজমুস সাদিক আরও বলেন, শিশুদের হামের টিকা ১০ মাস ও ১৫ মাসে দেওয়া হয়। ফলে অনেক শিশু ১০ মাস বয়সের আগে অর্থাৎ টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পানের মাধ্যমেই সাধারণত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পেয়ে থাকে। কিন্তু হামে আক্রান্ত শিশুরা কেন পাচ্ছে না, সেটি অধিকতর গবেষণার বিষয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত