Ajker Patrika

সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ

  • গত সোমবার অপহরণের শিকার হওয়া ২০ জেলের সন্ধান মেলেনি এখনো।
  • দস্যুদের কবজায় এখনো শতাধিক জেলে রয়েছে বলে অভিযোগ।
  • মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বন বিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ
সুন্দরবন। ছবি: সংগৃহীত

সুন্দরবনে অপহরণের দুই দিন পরও ২০ জেলের সন্ধান না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় দুবলারচরের ১০ সহস্রাধিক শুঁটকিকরণ জেলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ দিকে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বন বিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।

গত সোমবার রাতে ওই ২০ জেলেকে অপহরণের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনে সম্প্রতি দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে ঘটছে অপহরণের ঘটনা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হয়েছেন।

এ দিকে বনদস্যু আতঙ্কে নতুন করে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। ফলে মাসিক রাজস্বের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সাগরে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ। গতকাল বুধবার দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণ আতঙ্কে দুবলার ১০ সহস্রাধিক শুঁটকিকরণ জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষে এসে কী নিয়ে বাড়ি যাবেন, সে চিন্তায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

কামাল উদ্দিন বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যাঁরা টাকা দিতে পারছেন না, তাঁদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে প্রবাদ ছিল “জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ।” এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে “সাগরে গেলে ডাকাত”। দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কবজায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে গেছে। দুই দিনেও ওই ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লি দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বনদস্যু আতঙ্কে আমাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না যে কারণে মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।’

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত