Ajker Patrika

শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টে অতিথিকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, রাতারাতি বদলে গেল নাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২: ০৬
শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টে অতিথিকে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ, রাতারাতি বদলে গেল নাম
‘মেঘ মালতি’ নামের রিসোর্টটির নাম বদল করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকার একটি রিসোর্টে অতিথির গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বিতর্কিত সেই রিসোর্টটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ‘মেঘ মালতি’ নামের ওই রিসোর্টে অবস্থান করা এক যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উল্টো ওই যুবক সঙ্গীদের নিয়ে এসে রিসোর্ট কর্মীদের মারধর ও অর্থ দাবি করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে রিসোর্টটির নাম ‘মেঘ মালতি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ৮ জুলাই মৌলভীবাজারের বাসিন্দা অপূর্ব সূত্রধর নামে এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে ওই রিসোর্টের ১০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। সেখানে তাঁরা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

অপূর্ব সূত্রধরের অভিযোগ, রিসোর্ট ত্যাগ করার পর তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়।

পরদিন ৯ জুলাই অপূর্ব বেশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে ওই রিসোর্টে যান। সেখানে রিসোর্ট ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারামারি শুরু হয়।

অপূর্বের দাবি, একটি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে ছবি পাঠিয়ে তাঁর কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসলে তিনি টাকা দেননি বলে জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল, সেটি জেরিন চা বাগানের ‘নাসির’ নামে এক যুবকের। তিনি ওই রিসোর্টে কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকে নাসির আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘৯ জুলাই অপূর্ব এসে একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলের কথা বলেন। আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা এসে আমাদের গালাগাল ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে টাকা দেয়নি বলে স্বীকার করে।’

রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থাপক জানান, তিনি বাড়িতে থাকার সময় মালিকপক্ষ নামটি পরিবর্তন করেছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অপূর্ব সূত্রধর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন পরিবারের আত্মীয়রা কথা বলছেন। পূর্বে মিডিয়ার সামনে আমি যা বলার বলেছি। এ নিয়ে আমার নতুন করে কিছু বলার মানসিকতা নেই।’ তবে তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, ‘আমরা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছি। অপূর্ব যে ছবিটি দেখিয়েছিলেন, সেটির দেয়ালের রঙের সঙ্গে রিসোর্টের দেয়ালের মিল নেই। ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে।’

শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন পুলিশ পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি আপসনামার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। সেখানে কোনো পক্ষ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপূর্ব নামের ওই যুবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন এটি একটি ভুল-বোঝাবুঝি ছিল এবং তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।’ রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত