Ajker Patrika

রাজধানীতে পাম্পে মিলছে না জ্বালানি তেল, বন্ধ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৪৪
রাজধানীতে পাম্পে মিলছে না জ্বালানি তেল, বন্ধ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন
দু-একটি পাম্প পুরোপুরি খোলা আছে, তবে সেগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঈদের আমেজ এখনো কাটেনি, এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। পেট্রল ও অকটেনের অভাবে রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে। রাজধানীর বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পেট্রল ও অকটেনের মেশিনগুলো অলস পড়ে আছে। কোথাও টাঙানো হয়েছে ‘অকটেন ও পেট্রল নেই’ লেখা সংবলিত নোটিশ, আবার কোথাও প্রবেশপথে আড়াআড়ি করে দেওয়া হয়েছে দড়ি। কোনো কোনো পাম্প খোলা থাকলেও সেখানে শুধু সিএনজি দেওয়া হচ্ছ। হাতেগোনা যে দু-একটি পাম্প পুরোপুরি খোলা রয়েছে, সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আজ সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে আছে একের পর এক ফিলিং স্টেশন। মেরাদিয়ার বনশ্রী ফিলিং স্টেশন, রামপুরার হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশন এবং বনশ্রী-ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার রোডের কিকো ফিলিং স্টেশন কোনোটিতেই মিলছে না তেল। একই চিত্র দেখা গেছে শহীদ তাজ উদ্দিন আহম্মেদ সরণির মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানি, সিটি ফিলিং স্টেশন এবং নীলক্ষেতের কিউ অ্যান্ড জি ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে।

বনশ্রী ফিলিং স্টেশনের কর্মী আজাদ বলেন, ‘আগের দিন রাতে শেষবারের মতো পেট্রল ও অকটেন ছিল। এরপর থেকে শুধু ডিজেল বিক্রি করছি। এখন যা সামান্য ডিজেল আছে, তা শেষ হলে পাম্প পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।’

পেট্রল ও অকটেনের অভাবে রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে।
পেট্রল ও অকটেনের অভাবে রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে।

হাজীপাড়া পাম্পের এক কর্মী বলেন, ‘এখানে শুধু অকটেন, ডিজেল আর সিএনজি পাওয়া যায়। কিন্তু ঈদের আগের দিন থেকেই তেলের গাড়ি আসা বন্ধ। আপাতত শুধু সিএনজি দিচ্ছি। আশা করছি সন্ধ্যার দিকে তেল আসতে পারে।’

এসব পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এক পাম্পে তেল না পেয়ে হন্যে হয়ে ছুটছেন অন্য পাম্পে। এমন একজনের সঙ্গে কথা হয় রামপুরার হাজীপাড়া পাম্পে। মোহাম্মদ মিঠু নামের ওই মোটরবাইক চালক বলেন, ‘নীলক্ষেত গিয়েছিলাম, সেখানে দুটো পাম্পই বন্ধ। রমনায় গিয়েছিলাম, লাইন অনেক বড় দেখে চলে এসেছি। এখানে তেল নেই। গাড়িতে অল্প কিছু আছে, কী করব বুঝতে পারছি না।’

বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লাইন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়িয়ে জাহাঙ্গীর গেটের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সেখানে বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চালকের সঙ্গে কথা হয় আজকের পত্রিকা এই প্রতিবেদকের। শামীম আহমেদ নামে একজন প্রাইভেট কার চালক বলেন, ‘কয়েকটা পাম্প ঘুরে আসলাম, কোথাও অকটেন নেই। শেষমেশ এখানে লাইনে দাঁড়ালাম। প্রায় দেড় ঘণ্টা এখানে অপেক্ষা করছি, আরও আধঘণ্টা থেকে ঘণ্টাখানেক সময় লাগতে পারে।’

নাবিস্কোর সাউদার্ন অটোমোবাইল লিমিটেড পাম্পেও বাইক ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। মহাখালী বাস টার্মিনাল ছাড়িয়ে গেছে ওই পাম্পে তেল নিতে আসা গাড়ির সারি। সেখানে মোটরসাইকেল চালক সবুজ মণ্ডল বলেন, ‘অন্তত ১০টা পাম্প ঘুরেছি। প্রায় সবই বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে সেখানে বড় লাইন। এখানে তুলনামূলক ছোট লাইন দেখে দাঁড়ালাম। তাও দেড় ঘণ্টার আগে পাব বলে মনে হচ্ছে না।’

মহাখালীর সাউদার্ন অটোমোবাইল লিমিটেডের কর্মী আশরাফুল বলেন, ‘ঈদের দিন কিছু সময় পাম্প বন্ধ থাকলেও রাত থেকে আমরা নিয়মিত তেল দিচ্ছি। আমাদের স্টকে যা আছে তা দিয়ে রাত পর্যন্ত চালানো যাবে। তবে স্বস্তির খবর হলো, আজ সন্ধ্যায় আরও তেলের গাড়ি আসার কথা রয়েছে।’

এর বাইরেও রমনা ফিলিং স্টেশন, শহীদ তাজ উদ্দিন আহম্মেদ সরণির সিকদার ফিলিং স্টেশনসহ গুটিকয়েকটি পাম্প খোলা রয়েছে। তবে এসব পাম্প থেকে জ্বালানি নিতে হলে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ২ ঘণ্টা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত