Ajker Patrika

জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন: সংকট কাটাতে হলে প্রয়োজন বিশ্বকবির মানবিক আন্দোলন

  • শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হবে আজ
  • সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, আবৃত্তি ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন: সংকট কাটাতে হলে প্রয়োজন বিশ্বকবির মানবিক আন্দোলন
জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন। শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয় গতকাল। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রতিক্রিয়াশীল, মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং নানা ধরনের অবক্ষয়ে সমাজসচেতন মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও হতাশা। এমন প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দীপনামূলক গান ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ দিয়ে গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে উদ্বোধনী আয়োজন শুরু হয়। উদ্বোধক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিক্রিয়াশীল, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর যে উত্থান ঘটছে, তার পেছনে রয়েছে লোভ ও শক্তির লড়াই। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীগুলোর এই উত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং তা সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের যে সংকট, তারই একটি বহিঃপ্রকাশ। এ সংকট কাটাতে প্রয়োজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক আন্দোলন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, গান ও প্রাণ এ দুটি পরস্পর অঙ্গাঙ্গি জড়িত। গান থাকলে প্রাণ থাকে আর প্রাণ থাকলে গান থাকে। সংগীতের চর্চার দরকার হয়। সামাজিকভাবে এই চর্চা জরুরি। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ সেই কাজটা করছে।

স্বাগত বক্তব্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম বলেন, বিশ্বগ্রাসী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সমাজে যখন অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তখনই সংস্কৃতি পথ দেখিয়েছে। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ প্রতিষ্ঠা থেকেই এই কাজ করে আসছে। এটি শুধু রবীন্দ্রসংগীত প্রচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

প্রারম্ভিক বক্তব্যে পরিষদের নির্বাহী সভাপতি বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভীষণ দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি। সাম্প্রদায়িক হানাহানি, মৌলবাদের উত্থান, ছায়ানটে-উদীচীতে আগুন। সদ্য গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। তারা যেন এই বাধাকে প্রতিহত করে। আমাদেরকেও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এসব বাধা-বিঘ্ন প্রতিহত করতে হবে।’

আয়োজনের সভাপতি ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন পরিষদের নির্বাহী সদস্য অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদার।

আলোচনার পরে ছিল রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। বিকেলে শুরু হয় প্রতিনিধি সম্মেলন। সন্ধ্যায় সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, আবৃত্তি ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।

আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে শুরুতে থাকবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি। এর পরে হবে প্রতিনিধি সম্মেলন ও সেমিনার। বিকেলে থাকবে পুরস্কার ও পদক বিতরণ আয়োজন। এবার রবীন্দ্রপদক পাচ্ছেন অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন। প্রধান অতিথি থাকবেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনের এই আয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা, শারজা বন্দরে ফিরে যাচ্ছে

৪০ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের খরচ কত, ক্ষতিপূরণের আবেদনই পড়েছে ২৮২৩৭টি

যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া থেকে বেরোতে চায় মধ্যপ্রাচ্য, আলোচনায় নতুন নিরাপত্তা মডেল

ছেলেকে নিয়োগ দিতে সুন্দরগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের জালিয়াতি

ইসলামাবাদে সাজ সাজ রব: ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা বলয়, দুই দিনের ছুটি ও ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত