Ajker Patrika

বস্তার তালি ও মই: জান হাতে নিয়ে সেতু পার

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০২: ২৯
বস্তার তালি ও মই: জান হাতে নিয়ে সেতু পার
বেইলি সেতুর ভাঙা অংশে বালুভর্তি বস্তা দিয়ে রেখেছে স্থানীয়রা। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ত্রিশালের পোড়াবাড়ী বাজার এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভাঙাচোরা বেইলি সেতুর ক্ষত ঢাকতে বালুভর্তি প্লাস্টিকের বস্তার তালি দিয়ে রেখেছেন স্থানীয়রা। আর অসমাপ্ত অবস্থায় থাকা পাশের নতুন সেতুতে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। কাঠ ও বাঁশ দিয়ে বানানো মই বেয়ে সেই সেতুতে উঠে নদী পার হচ্ছেন অনেকে। এভাবে দুর্ভোগ আর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই দুই সেতু পার হচ্ছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার লাখো মানুষ। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ। স্থানীয়দের দাবি, জনভোগান্তি দূর করতে অবিলম্বে নতুন সেতুর কাজ শেষ করে তা চালু করা হোক।

সরেজমিনে ত্রিশালের পোড়াবাড়ী বাজার এলাকায় খিরু নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো বেইলি সেতু ঘুরে দেখা যায়, সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও সরে গেছে পাটাতন। স্থানীয়রা ভাঙা অংশে বালুভর্তি প্লাস্টিকের বস্তা রেখে দিয়েছেন। পুরো সেতুতে শতাধিক বস্তা রয়েছে। অনেক পথচারী ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে না গিয়ে পাশের অসমাপ্ত নতুন সেতু ব্যবহার করছেন। সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠ ও বাঁশের মই বেয়ে নতুন সেতুতে উঠছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম মিয়া বলেন, ‘এই ব্রিজডা দুই উপজেলার লাখ লাখ মাইনষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। ভাঙাচোরা জায়গায় এক শডার বেশি প্লাস্টিকের বস্তা দিয়া তালি দিয়া মানুষ চলাফেরা করতাছে। দুর্ঘটনার ডরে অনেক মানুষ পাশের নতুন ব্রিজে মই লাগাইয়া উঠতাছে।’

রাণীগঞ্জ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি রুবায়েত হোসেন বলেন, ‘ত্রিশাল পৌর শহরে যাতায়াতের জন্য এই বেইলি ব্রিজটিই আমাদের একমাত্র ভরসা। বিকল্প পথে গেলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুইটাই বেশি লাগে। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা দূর কইরা নতুন সেতুটা দ্রুত চালু করা দরকার।’

মই বেয়ে নতুন সেতু থেকে নামছে নারী ও শিশুরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
মই বেয়ে নতুন সেতু থেকে নামছে নারী ও শিশুরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের আগস্টে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।

জমির মালিকদের একজন বাসন্তী রানী চৌধুরী বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণে আমার তিন শতকের ভিটে পড়েছে। অধিগ্রহণের টাকা পাইনি। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত জমির দখল ছাড়া হবে না।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন বলেন, প্রায় ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে অতিদ্রুতই কাজ শেষ করা যাবে।

এ বিষয়ে এলজিইডির ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, নতুন সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ করার কথা থাকলেও জমির মালিকদের বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত