Ajker Patrika

স্ত্রীর সম্পর্ক ও মাদক কারবারের তথ্য জেনে ফেলায় যুবককে খুন, স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৩০
স্ত্রীর সম্পর্ক ও মাদক কারবারের তথ্য জেনে ফেলায় যুবককে খুন, স্ত্রীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালত থেকে আসামিদের নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদক কারবারিদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ব্যক্তির সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয় জেনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার মামলায় তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং লাশ গুমের অপরাধে প্রত্যেককে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। পরে উপস্থিত আসামিদের পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন নিহতের স্ত্রী ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর গ্রামের ফরিদা বেগম (৩৮), একই গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের হাসান শেখ। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর শিশুপার্কে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করতেন।

নিখোঁজের চার দিন পর ১৩ মে বিকেল ৪টার দিকে ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা আজিজ খানের আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ (৭৩) পরদিন ১৪ মে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা ওই এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং হাসান শেখ তাঁদের সম্পর্কে তথ্য জানতেন। একপর্যায়ে হাসান মাদক কারবারিদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। এতে আসামিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ফরিদা বেগমের সঙ্গে হাসান শেখের বিয়ে হয়। ফরিদা মাটিকাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর উপার্জনের টাকা স্বামী নিয়ে নেন বিধায় তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলত। পাশাপাশি স্ত্রীর অন্য ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন হাসান। একপর্যায়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে।

আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এ বিরোধের জেরে ফরিদা তাঁর স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং বিষয়টি মাদক কারবারি শাহজাহানকে জানান। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহজাহান মোবাইল ফোনে হাসানকে ডেকে নেন। এরপর অন্য আসামিদের সহযোগিতায় তাঁকে হত্যা করে বস্তায় ভরে আখখেতে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্তকালে স্ত্রীসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁরা প্রায় চার বছর কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বর তিন আসামি আদালতে হাজির হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু বলেন, ‘স্ত্রীর বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় জেনে যাওয়া এবং স্ত্রীর উপার্জনের টাকা নিজ হেফাজতে নেওয়ার ক্ষোভকে পুঁজি করে এলাকার মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

আজিজুর রহমান আরও জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিরা দুই ধরনের সাজা একসঙ্গে ভোগ করবেন। পাশাপাশি তাঁদের আগের হাজতবাসের সময় কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত