Ajker Patrika

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পেট্রাপোলে

­যশোর প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৪১
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পেট্রাপোলে
কলকাতায় নিহতদের স্বজনদের কাছে গতকাল রাতে মর্গ থেকে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ ভারতের পেট্রাপোলে পৌঁছেছে। তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতাস্থ হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে মরদেহগুলো আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ভারতের পেট্রপোল সীমান্তে পৌঁছেছে।

দুই দেশের কূটনীতিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে বিজিবি ও ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে। এর আগে মরদেহগুলো গ্রহণ করতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোলে অশ্রুসিক্ত নয়নে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে নিহতদের স্বজনদের।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আসছে। তারা হলো কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী ও সাভারের জোবায়ের বাবু। ইতিমধ্যে নিহত বাংলাদেশিদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মরদেহ নিতে আসা আহম্মেদ বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন বলেন, গত সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা যান আহম্মেদ বাবু। সেখান থেকে পরিবারের সঙ্গেও কথা হয়। কিন্তু কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগার পর আর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে নিহতের খবর জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে নিহতের ছবি পাঠালে পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুকে শনাক্ত করা হয়।

কুষ্টিয়ার দেবাশীষের শ্যালক ফিরোজ হাসান কলকাতায় রয়েছেন। এ ছাড়া কলকাতায় থাকা দেবাশীষের আত্মীয় সঞ্চয় ঘোষ ও ভগ্নিপতির ভাই কাঞ্চন নন্দীও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছেন। তাদের মরদেহ নিতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ও স্বজনেরা বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামিক রীতিতে দাফন করা হবে। নয় বছর আগে আফসানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন দেবাশীষ। ধর্মীয় ভিন্নতায় তাদের সংসার জীবনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এই দম্পতির এখন বেঁচে থাকল ৮ বছর বয়সী কন্যা সন্তান।

এদিকে আগুনের ঘটনায় নিহত সাতক্ষীরার বাসিন্দা মৃত এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত আসছে। নিহত আরেক বাংলাদেশি রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় সৎকার করা হবে ভারতেই।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন বলেন, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে মরদেহগুলো পেট্রাপোলে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত