Ajker Patrika

ঋণের জামিনদার হওয়াই কাল, মা-মেয়েকে হত্যার পর লাশের সঙ্গেই ঘুমাতেন দুই বোন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
নিহত মা ও মেয়ের মাঝখানে হত্যাকারী গৃহশিক্ষক মীম। ছবি: সংগৃহীত
নিহত মা ও মেয়ের মাঝখানে হত্যাকারী গৃহশিক্ষক মীম। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র দেড় লাখ টাকার এনজিও ঋণের জামিনদার হওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়ের নিখোঁজের ২১ দিন পর তাদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওসি এম সাইফুল আলম জানান, নিহত রোকেয়া বেগমের প্রতিবেশী ও তার মেয়ের গৃহশিক্ষক মীমের (২২) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে রোকেয়া গ্রান্টার (জামিনদার) হয়ে তিনটি এনজিও থেকে মীমকে দেড় লাখ টাকা ঋণ তুলে দেন। ঋণের কিস্তি ও টাকা পরিশোধের জন্য রোকেয়া চাপ দিলে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। সে সূত্রে মীম ও তাঁর ছোট বোন নুর জাহান মা-মেয়েকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করে এবং দুই বোন মিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়।

পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৫ ডিসেম্বর প্রথমে শিশু ফাতেমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা, এরপর মীম ফোনে মা রোকেয়া বেগমকে জানান, তাঁর মেয়ে অসুস্থ। খবর পেয়ে মা রোকেয়া মেয়ের খোঁজে মীমের বাসায় প্রবেশ করা মাত্রই দুই বোন মিলে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে তাঁকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নৃশংসতার চরম পর্যায়ে মা ও মেয়ের লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে সেই খাটের ওপরই রাত যাপন করতেন মীম।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে চাতুর্যের আশ্রয় নেন ঘাতক দুই বোন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফাতেমা ওই বাড়িতে প্রবেশ করছে। কিন্তু হত্যার পর মানুষের নজর এড়াতে ফাতেমার জামা পরে বাসা থেকে বের হয় মীমের ছোট বোন নুর জাহান, যাতে সবাই ভাবে, ফাতেমা সুস্থ অবস্থায় চলে গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর মা ও মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ২৭ ডিসেম্বর থানায় জিডি এবং পরে ৬ জানুয়ারি অপহরণ মামলা করেন রোকেয়ার স্বামী শাহীন। দীর্ঘ ২১ দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার সেই ঘাতক শিক্ষিকার বাসা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মীম, নুর জাহানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই বোনকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুই বোন হত্যাকাণ্ডে তাঁদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বড় বোন মীমকে জেলহাজতে এবং ছোট বোন নুর জাহানকে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত